দক্ষিণ প্লাজায় শপথ, নিরাপত্তায় ১৫ হাজার সদস্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার
দক্ষিণ প্লাজায় শপথ, নিরাপত্তায় ১৫ হাজার সদস্য

প্রকাশ:  ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), আর সেই নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত ১৫ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন–এর দক্ষিণ প্লাজা এখন যেন প্রস্তুতির এক বিশাল কর্মযজ্ঞের কেন্দ্রবিন্দু। স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান। ঐতিহাসিক এই আয়োজনকে ঘিরে দেশি-বিদেশি এক হাজারের বেশি অতিথি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এই শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকাজুড়ে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী এবং বিজিবি। এর পাশাপাশি বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে সোয়াট টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং প্রশিক্ষিত ক্যানাইন বা ডগ স্কোয়াড। ইতোমধ্যে অনুষ্ঠানস্থলসহ আশপাশের এলাকা সুইপিং কার্যক্রমের মাধ্যমে তল্লাশি সম্পন্ন করেছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, যাতে কোনো ধরনের বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু না থাকে।

শুধু দৃশ্যমান নিরাপত্তাই নয়, অদৃশ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অবস্থান করছেন। তারা আগত অতিথিদের চলাচল, সন্দেহজনক কার্যকলাপ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের বাসা থেকে শপথস্থল পর্যন্ত যাতায়াতের পুরো পথজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা থাকবে। প্রোটোকল রক্ষায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে অর্ধশতাধিক সরকারি গাড়ি, যেগুলো নির্ধারিত নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে চলাচল করবে। পুরো রুটে মোতায়েন থাকবে ট্রাফিক পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি। তিনি বলেন, নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে পুরো অনুষ্ঠানস্থল এবং আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো হুমকি নেই এবং পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সংসদ ভবনে প্রবেশের জন্য নির্দিষ্ট প্রবেশপথ নির্ধারণ করা হয়েছে। মণিপুরী পাড়া এবং আসাদ গেট সংলগ্ন প্রবেশপথ দিয়ে অতিথি ও সংশ্লিষ্টদের অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে হবে। প্রতিটি প্রবেশপথে থাকবে কড়া তল্লাশি ব্যবস্থা, যেখানে আধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

এই আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। বিশেষ করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং লেক রোডে শপথ অনুষ্ঠানের দিন সকাল থেকেই যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এতে সাধারণ মানুষের কিছুটা ভোগান্তি হলেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই আয়োজন শুধু একটি শপথ অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। ফলে দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা দিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সাধারণ মানুষও এই আয়োজনকে ঘিরে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। অনেকেই সংসদ ভবনের আশপাশে অবস্থান নিয়ে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চান। তবে নিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত যেমন প্রতীকী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিরাপত্তার দিক থেকেও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। খোলা স্থানে এমন আয়োজন করা হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন হয়, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সফলভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক অতিথিদের উপস্থিতির কারণে নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন দেশের পর্যবেক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই শপথ অনুষ্ঠান শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রতীক। তাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই আয়োজন সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা এখন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায়। কড়া নিরাপত্তা, ব্যাপক প্রস্তুতি এবং সর্বস্তরের মানুষের আগ্রহ—সবকিছু মিলিয়ে শপথ অনুষ্ঠানটি দেশের জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনায় পরিণত হতে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত