ছায়া মন্ত্রিসভা হলে স্বাগত জানাবে বিএনপি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ বার
ছায়া মন্ত্রিসভা হলে স্বাগত জানাবে বিএনপি

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, তখন সমানতালে আলোচনায় উঠে এসেছে বিরোধী দলের সম্ভাব্য ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের বিষয়টি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত এই ধারণা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা। এই প্রেক্ষাপটে সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দেশে যদি বিরোধী দল ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে, তবে সেটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখবে এবং স্বাগত জানাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে বিএনপি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।

সোমবার দুপুরে গুলশান কার্যালয়ের সামনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি, স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এই সময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কার্যালয়ে প্রবেশ করলে নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। নির্বাচনে দলটির ঐতিহাসিক বিজয়ের পর দলের ভেতরে যেমন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তেমনি সামনে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েও চলছে প্রস্তুতি।

এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুহূর্তে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বের অনেক গণতান্ত্রিক দেশে ছায়া মন্ত্রিসভার একটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশেও যদি এমন একটি কাঠামো গড়ে ওঠে, তবে সেটি গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক হবে। তার ভাষায়, বিরোধী দল যদি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে, তাহলে তা সরকারের কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সহায়তা করবে।

তিনি একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ প্রসঙ্গেও কথা বলেন। এ বিষয়ে তিনি সাংবিধানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, যেকোনো সাংবিধানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংবিধানের বিধান অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন করে যে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-ও বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বিরোধী দল সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে গণতান্ত্রিক আচরণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা বিএনপির। তার মতে, সংসদে কার্যকর বিরোধী দল থাকলে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হয় এবং জনগণের স্বার্থ আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়।

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়টি সামনে আসে রোববার, যখন জামায়াত নেতা শিশির মনির এবং এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে ঘোষণা দেন। তাদের এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ব রাজনীতিতে ছায়া মন্ত্রিসভা একটি সুপরিচিত ধারণা, বিশেষ করে ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতির সংসদীয় গণতন্ত্রে। যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে বিরোধী দল সরকার গঠনের বিকল্প প্রস্তুতি হিসেবে নিজেদের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে থাকে। এই ব্যবস্থায় সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা থাকেন, যিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন, সমালোচনা করেন এবং বিকল্প নীতি প্রস্তাব করেন।

এই কাঠামো শুধু সরকারের সমালোচনার জন্য নয়, বরং বিরোধী দলের জন্য একটি রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র হিসেবেও কাজ করে। এর মাধ্যমে বিরোধী দল ভবিষ্যতে সরকার পরিচালনার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করে এবং জনগণের সামনে নিজেদের বিকল্প নীতি তুলে ধরার সুযোগ পায়। ফলে এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ছায়া মন্ত্রিসভা একটি নতুন ধারণা হলেও, অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন এটি দেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে সংসদে কার্যকর বিরোধী দল থাকলে সরকারের ওপর জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হয় এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য বজায় থাকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এটি শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়াবে না, বরং জনগণের প্রত্যাশা পূরণেও সহায়ক হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জনগণের প্রত্যাশা একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সরকার এবং দায়িত্বশীল বিরোধী দল। এই প্রেক্ষাপটে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবার দৃষ্টি নতুন সরকার গঠন, শপথ অনুষ্ঠান এবং সংসদের কার্যক্রম শুরুর দিকে। এর পাশাপাশি বিরোধী দলের সম্ভাব্য ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন দেশের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে আগ্রহী। বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে দলটি গণতান্ত্রিক চর্চার প্রতি তাদের ইতিবাচক অবস্থান তুলে ধরেছে। এখন দেখার বিষয়, এই ধারণা বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে কতটা শক্তিশালী করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত