নগরকান্দায় বাস খাদে, অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় এড়াল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ বার
নগরকান্দায় বাস খাদে, অল্পের জন্য বড় বিপর্যয় এড়াল

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা-য় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে দুর্ঘটনায় কেউ প্রাণ না হারানোয় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষায়, কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছেন যাত্রীরা। আহতদের অনেকেই এখনো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, যদিও চিকিৎসকদের মতে তাদের শারীরিক অবস্থা শঙ্কামুক্ত।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়ক-এর ডাঙ্গী ইউনিয়নের জোয়ারকান্দী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি চাকলাদার পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস, যা ফরিদপুরের দিকে যাচ্ছিল। প্রতিদিনের মতোই বাসটি বিভিন্ন স্টপেজ থেকে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে চলছিল। যাত্রীদের কেউ কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন, কেউ চিকিৎসার জন্য, আবার কেউ ব্যক্তিগত কাজে বের হয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা তাদের যাত্রাকে আতঙ্কে পরিণত করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি দ্রুতগতিতে চলছিল এবং সামনে থাকা একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে একটি ইজিবাইক দ্রুতগতিতে চলে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বাসচালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি সড়কের ডান পাশে থাকা গভীর খাদে পড়ে উল্টে যায়। বাসটি উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চিৎকার ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পরপরই আশপাশের স্থানীয় লোকজন মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করতে এগিয়ে যান। অনেক যাত্রী বাসের ভাঙা জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কেউ কেউ আহত অবস্থায় কাতরাচ্ছিলেন। স্থানীয়দের সহায়তায় একে একে সবাইকে বাস থেকে বের করা হয়। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা বিকট শব্দ শুনে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি বাসটি উল্টে আছে, মানুষ চিৎকার করছে। আমরা দ্রুত সবাইকে বের করার চেষ্টা করি।”

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে। স্থানীয়ভাবে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে ফরিদপুর সদর হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একটি উদ্ধারকারী দল এবং বাংলাদেশ পুলিশ-এর সদস্যরা। তারা উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এবং দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে তা স্বাভাবিক করা হয়।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন, তবে কেউ গুরুতরভাবে আহত হননি। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ওভারটেকের সময় ভারসাম্য হারানোকে দায়ী করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, মহাসড়কে অনেক চালক অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালান এবং নিয়ম না মেনে ওভারটেক করেন, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ব্যস্ত মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি এবং অসতর্কতা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

একজন যাত্রী, যিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন, বলেন, “বাসটি খুব দ্রুত চলছিল। হঠাৎ দেখি সামনে একটা ইজিবাইক, তারপরই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। আমরা সবাই খুব ভয় পেয়ে যাই। আল্লাহর রহমতে বেঁচে গেছি।”

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় সমস্যা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, চালকদের অসতর্কতা, অতিরিক্ত গতি, যানবাহনের ত্রুটি এবং সড়কের অব্যবস্থাপনা এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তারা মনে করেন, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি এবং চালকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি চালকদের সতর্ক থাকতে এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, সড়কে প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ এবং সামান্য অসতর্কতা বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তবে স্থানীয়দের দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার কারণে একটি সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা প্রাণহানির ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে। আহতদের পরিবার ও স্বজনরা এখন তাদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত