গাজার পুনর্গঠনে ট্রাম্পের ৫০০ কোটি ডলার অনুদান ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ বার
গাজার পুনর্গঠনে ট্রাম্পের ৫০০ কোটি ডলার অনুদান ঘোষণা

প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটময় অঞ্চলে মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠনের উদ্যোগে গাজার জন্য ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি অনুদানের ঘোষণা আসন্ন। এই প্রতিশ্রুতি আগামী বৃহস্পতিবার বোর্ড অব পিসের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত এক পোস্টে জানান। তিনি বলেন, এই অর্থায়ন ফিলিস্তিনি উপত্যকায় মানবিক কার্যক্রম এবং পুনর্গঠন উদ্যোগে ব্যবহার করা হবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, বোর্ড অব পিসের সদস্য রাষ্ট্রগুলো ফিলিস্তিনি উপত্যকায় জাতিসংঘ অনুমোদিত স্থিতিশীলতা বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের জন্য হাজার হাজার কর্মী মোতায়েনের অঙ্গীকার করেছে। এটি ফিলিস্তিনি জনগণের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্রপ্রধানসহ ২০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। ট্রাম্প বলেন, “ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থায় পরিণত হবে বোর্ড অব পিস।”

ট্রাম্প নিজেও এই সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি জানাননি, কোন কোন দেশ এই পুনর্গঠনের জন্য অর্থ প্রদান করছে। তথাকথিত আঞ্চলিক শক্তিগুলো যেমন তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব, কাতার এবং ইসরায়েল, সেই সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া বোর্ডে যোগ দিলেও বড় পরাশক্তি ও পশ্চিমা মার্কিন মিত্ররা আপাতত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

গাজার দীর্ঘদিনের সংকট এবং মানবিক দুরবস্থার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগের গুরুত্ব অনেক। ২০২১ সালের সংঘর্ষের পর ফিলিস্তিনি উপত্যকায় অবকাঠামো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অনুদান ফিলিস্তিনি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

ট্রাম্পের ঘোষণার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে, বোর্ড অব পিসকে একটি কার্যকরী আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। এই সংস্থার লক্ষ্য শুধু অর্থায়ন প্রদান নয়, বরং ফিলিস্তিনি জনগণের পুনর্গঠন এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করা। ফিলিস্তিনের স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমন্বয় এবং পশ্চিমা মিত্রদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার এবং মিসর ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল এবং অন্যান্য পশ্চিমা মিত্ররা যে সতর্ক অবস্থান নেয়নি, তা বোঝায় যে আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিলতা এখনও সমাধান হয়নি।

গাজায় এই পুনর্গঠন প্রকল্প কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুদান কার্যকর হলে, উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় স্কুল, হাসপাতাল, স্যানিটেশন সুবিধা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো মৌলিক অবকাঠামো পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই উদ্যোগের মাধ্যমে বোর্ড অব পিসকে একটি স্থিতিশীল ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থায় পরিণত করতে চাইছেন। তিনি আশা করছেন, এই বৈঠক ফিলিস্তিনে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। এছাড়া, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে কাজ করবে যে, গাজার পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা বিষয়টি বৈশ্বিক গুরুত্বের এবং একক দেশ বা সংস্থার উপর নির্ভরশীল নয়।

বৈঠকের আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবিক সংগঠন এবং আঞ্চলিক শক্তি গাজা পুনর্গঠনের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে। মানবিক সহায়তা এবং অর্থায়ন কার্যক্রমের জন্য কার্যকর তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত পদক্ষেপ এবং ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে গাজার মানুষের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে।

ফিলিস্তিনি জনগণের জীবনে এই পুনর্গঠন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মানবিক এবং অর্থনৈতিকভাবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পর্যাপ্ত পানীয় জল, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নিরাপদ আশ্রয় গৃহের মতো মৌলিক সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রমকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত