প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ট জয়ের পর নতুন সরকার শপথগ্রহণের আগেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা গেছে বিএনপি চেয়ারমান তারেক রহমান এবং সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এর মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকটি শুধু দু’জন শীর্ষ ব্যক্তিত্বের সংক্ষিপ্ত আলাপ নয় — বরং তা বাংলাদেশে ক্ষমতা হস্তান্তর, প্রশাসনিক গঠন ও আগামিকালকে কেন্দ্র করে সরকারের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গেল কয়েকদিনে রাজনৈতিক পরিবেশ তীব্র গতিশীল হয়ে উঠেছে। নির্বাচন শেষে সরকারের রুপচর্চা, শপথ অনুষ্ঠান, প্রশাসনিক দায়িত্বের পুনর্গঠন — সবকিছুই দেশের সামনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত। সেই প্রেক্ষাপটে নাসিমুল গণিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তার আগে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে বদলি সম্পর্কে সরকারিভাবে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা তৎক্ষণাত কার্যকর হয়েছে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আগামীকালের শপথ অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা এবং আনুষ্ঠানিক আয়োজনের তদারকি ও কার্যপরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে কিছু খুটিনাটি বিষয়ে চাওয়া হয়েছে এবং সেগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সংসদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান যেখানে হবে — সে সংক্রান্ত যুক্তিতর্কগুলো নিয়ে পয়েন্টগুলো নির্ধারণে সমন্বয় তৈরি হয়েছে।
নাসিমুল গণি আরও বলেন, “সদস্যদের শপথগ্রহণ হবে সংসদের শপথকক্ষে এবং মন্ত্রীদের শপথ হবে দক্ষিণ প্লাজায়।” তিনি আরও বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্যদের শপথের বিষয়ে বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে সরকার শুধু শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবে না, বরং ভবিষ্যৎ সংবিধান সংস্কারের মতো বৃহত্তর পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দেবে।
বৈঠকে দেশের চলমান প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা, সংবিধান ভিত্তিক শৃঙ্খলা, মন্ত্রিসভা, সংসদীয় কার্যক্রম এবং সরকারের কার্যনির্বাহী বিভাগগুলোকে কীভাবে গতিশীলভাবে পরিচালনা করা যাবে — এসব বিষয়ও উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ নয়, বরং দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি সমন্বিত দিকনির্দেশনার সূচনার দিকে ইঙ্গিত করেছে।
এর আগেও শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে তখন দায়িত্বে থাকা শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তি বাতিল করা হয়। এরপর প্রধান উপদেষ্টা মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে স্বল্প সময়ের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হলেও, এবার সেই দায়িত্ব নাসিমুল গণির হাতে স্থায়ীভাবে তুলে দেয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নির্বাচনের পর প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তটিকে একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু বলা হলেও অনেক উপাদান রয়েছে যা সাধারণ মানুষের কৌতূহল ও চৌকস নজর দাবি করে। আগামীকালের শপথ অনুষ্ঠানটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের চারদিকে প্রশাসনিক দলিল, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ক্ষমতা হস্তান্তরের স্বচ্ছতা — সবকিছুর প্রতিচ্ছবি। তাছাড়া নতুন প্রধানমন্ত্রী বাছাইয়ের সাথে সাথে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ভূমিকা ভবিষ্যতের প্রশাসনিক ও কার্যকরী সিদ্ধান্তগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করার পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো সরকারি কাঠামোর সাথে সমন্বয় করে বাস্তবায়নের পথে প্রশাসন যেভাবে এগিয়ে যাবে, তা ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতির চেহারা কীভাবে গড়াবে — সে নিয়েও আলোচনা চলছে। এমন এক সময়ে নাসিমুল গনির সঙ্গে তাঁর এই দেখা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে সংবিধান, প্রশাসন ও শাসন ব্যবস্থার মেলবন্ধনের একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই সাক্ষাৎ ও আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় একটি সুসংহত, সমন্বিত ও সম্মতিপূর্ণ পথচলার দিকে অগ্রসর হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়, যা আগামীতে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বড় ভূমিকা রাখতে পারে।