ইয়ামালের মিসে শীর্ষ হারাল বার্সেলোনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার
ইয়ামালের মিসে শীর্ষ হারাল বার্সেলোনা

প্রকাশ:  ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

স্প্যানিশ ফুটবলের আকাশে জমে থাকা অনিশ্চয়তার মেঘ অবশেষে বাস্তবে রূপ নিল। বহুদিন ধরে শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে সামান্য ভুলের যে আশঙ্কা ঘুরপাক খাচ্ছিল, সেটাই কাল হয়ে দাঁড়াল কাতালান জায়ান্ট বার্সেলোনার জন্য। জিরোনার মাঠে ২–১ গোলের পরাজয় শুধু একটি ম্যাচ হারার কষ্টই নয়, বরং তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে লা লিগার শীর্ষস্থানও। ম্যাচের সবচেয়ে বেদনাদায়ক মুহূর্ত হয়ে আছে তরুণ বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালর পেনাল্টি মিস, যা শেষ পর্যন্ত পুরো ম্যাচের গতিপথই বদলে দেয়।

এই হারের ফলে স্প্যানিশ লিগ লা লিগায় এখন নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সমান ২৪ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার সংগ্রহ ৫৮ পয়েন্ট, আর তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ৬০ পয়েন্ট নিয়ে উঠে গেছে শীর্ষে। অথচ মাত্র একদিন আগেও দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। বার্সা যদি এই ম্যাচে জয় পেত, তাহলে আবারও তারা নিজেদের জায়গা পুনরুদ্ধার করতে পারত। কিন্তু ফুটবলের নিষ্ঠুর বাস্তবতায় সুযোগ হাতছাড়া করলে তার মূল্য দিতে হয়, আর সেটাই হয়েছে এবার।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বার্সেলোনার জন্য আশাব্যঞ্জকই ছিল। বল দখল, আক্রমণ গঠন এবং সুযোগ তৈরিতে তারা এগিয়ে ছিল স্পষ্টভাবেই। পুরো ম্যাচে তারা ২৬টি শট নিয়েছে, যা পরিসংখ্যানগতভাবে তাদের আধিপত্যেরই প্রমাণ। কিন্তু গোল করার ক্ষেত্রে সেই আধিপত্যের প্রতিফলন ঘটেনি। বরং সুযোগ কাজে লাগানোর দিক থেকে বেশি কার্যকর ছিল জিরোনা।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি আসে। বার্সেলোনা পায় একটি পেনাল্টি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয় ইয়ামালের কাঁধে। পুরো মৌসুম জুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রশংসা কুড়ানো এই তরুণ তারকা এগিয়ে আসেন আত্মবিশ্বাস নিয়েই। কিন্তু তার নেওয়া শটটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন হতাশার নিঃশ্বাস। এই একটি মুহূর্ত যেন পুরো ম্যাচের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে জিরোনা ঘুরে দাঁড়ায় এবং একের পর এক আক্রমণে বার্সার রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে। বার্সেলোনার গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া অসাধারণ কিছু সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখার চেষ্টা করেন। অন্তত সাতটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ ঠেকান তিনি। তার এই প্রচেষ্টা না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুইবার বল জালে জড়িয়ে জিরোনা নিশ্চিত করে গুরুত্বপূর্ণ জয়।

এই পরাজয়ের মাধ্যমে একটি দীর্ঘদিনের রেকর্ডও ভেঙে গেছে। লা লিগায় প্রথম গোল করার পর বার্সেলোনা সর্বশেষ ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে হেরেছিল আতলেতিকো মাদ্রিদর বিপক্ষে। প্রায় এক দশক পর সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হলো।

অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ আগের ম্যাচেই নিজেদের দায়িত্ব সেরে রেখেছিল। তারা রিয়াল সোসিয়েদাদকে ৪–১ গোলে হারিয়ে চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল বার্সার ওপর। ফলে বার্সার জন্য এই ম্যাচটি হয়ে উঠেছিল শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কিন্তু সেই পরীক্ষায় তারা ব্যর্থ হয়েছে।

এই মৌসুমে পেনাল্টি মিসের ঘটনাও বার্সেলোনার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত সাতটি পেনাল্টির মধ্যে তিনটিতেই গোল করতে পারেনি দলটি। এর মধ্যে দুটি মিস করেছেন দলের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কি। এই পরিসংখ্যান বার্সেলোনার আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ মৌসুমে এমন ঘটনা ঘটেছিল, যখন লিওনেল মেসি ও নেইমারও পেনাল্টি মিস করেছিলেন।

পরাজয়ের পর বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকর কণ্ঠে ছিল হতাশার সুর। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেন, জিরোনা এই ম্যাচে জয়ের যোগ্য দল ছিল। তিনি বলেন, তাদের দল রক্ষণে খুবই দুর্বল ছিল এবং প্রতিপক্ষ অনেক সুযোগ তৈরি করেছে। একজন কোচ হিসেবে তিনি জানেন, এই অবস্থায় দলকে মানসিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

ফ্লিক আরও জানান, খেলোয়াড়দের মানসিক ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ দিতে তিনি দুই দিনের ছুটি দিয়েছেন। তার বিশ্বাস, এই বিরতি দলকে নতুন করে প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে। কারণ মৌসুম এখনো অনেক বাকি, এবং শিরোপার লড়াই শেষ হয়ে যায়নি।

এই পরাজয় শুধু একটি ম্যাচ হারার গল্প নয়, এটি একটি দলের মানসিক লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি। বার্সেলোনা একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশ্রণে নতুন দল গড়ে উঠছে। ইয়ামালের মতো তরুণদের ওপর দায়িত্ব বাড়ছে, এবং সেই দায়িত্বের সঙ্গে আসছে চাপও। পেনাল্টি মিসের সেই মুহূর্ত হয়তো তার জন্য কষ্টের স্মৃতি হয়ে থাকবে, কিন্তু এই অভিজ্ঞতাই তাকে ভবিষ্যতের বড় মঞ্চের জন্য আরও শক্ত করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। লা লিগার ইতিহাস বলছে, শীর্ষস্থান ধরে রাখা যেমন কঠিন, তেমনি হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার করাও সহজ নয়। তবে বার্সেলোনার মতো ক্লাব কখনোই লড়াই ছেড়ে দেয় না।

সমর্থকদের জন্য এই সময়টা উদ্বেগের হলেও আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোই নির্ধারণ করবে শেষ পর্যন্ত কে শিরোপা জিতবে। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ইয়ামালের সেই একটি মিস পুরো মৌসুমের গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

বার্সেলোনার সামনে এখন শুধু একটি লক্ষ্য—ঘুরে দাঁড়ানো। কারণ ফুটবল এমনই এক খেলা, যেখানে একটি ভুল যেমন সবকিছু বদলে দিতে পারে, তেমনি একটি সাফল্যও ফিরিয়ে দিতে পারে হারানো গৌরব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত