ডিভোর্সের নথিতে সাক্ষী চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৩২ বার
ডিভোর্সের নথিতে সাক্ষী চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া

প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় তার দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন। যদিও এই ঘোষণার পর ভক্তমহলে নানান প্রশ্নের উদ্রেক ঘটে, কারণ অনেকেই ধারণা করেছিলেন বিষয়টি হয়তো শুধুই পারিবারিক টানাপোড়েন, আনুষ্ঠানিক কোনো পদক্ষেপ তখনো নেওয়া হয়নি। তবে এবার সেই জল্পনার অবসান ঘটেছে। গণমাধ্যমের হাতে আসা একটি উকিল নোটিশে নিশ্চিত হওয়া গেছে, কনা ও তাঁর স্বামী গোলাম মো. ইফতেখার গহীনের মধ্যে আইনত বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়েছে।

এই বিচ্ছেদের নথিতে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও চমকপ্রদ দিকটি হলো—ডিভোর্স নোটিশে যাঁরা সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন, তাঁদের একজন হচ্ছেন দেশের আরেক জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। অন্যজন হলেন গোলাম মোর্শেদ নামের একজন পুরুষ, যিনি কনাদের পারিবারিক পরিসরে পরিচিত বলে জানা গেছে।

নুসরাত ফারিয়া ও কনার বন্ধুত্ব মিডিয়া জগতের বাইরে সবারই জানা। সামাজিক অনুষ্ঠান, ভ্রমণ কিংবা পারিবারিক জমায়েতে দুজনকে প্রায়ই একসঙ্গে দেখা যেত। এমনকি কনার স্বামী গহীনের সঙ্গেও ফারিয়ার সুসম্পর্কের নানা চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় শোভা পেয়েছে দীর্ঘদিন। তবে এবার সেই সম্পর্কের নতুন মোড় হলো, বিচ্ছেদের সাক্ষী হিসেবে কনার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্থান পেলেন ফারিয়া।

এই ঘটনা শুধু মিডিয়া জগতেই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কারণ বিচ্ছেদের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় একজন সহকর্মী এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাক্ষী হওয়া খুব কমই দেখা যায়। অনেকেই এটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন—বন্ধুত্বের জায়গা থেকে ফারিয়ার এমন সিদ্ধান্ত কনার প্রতি তার নিঃস্বার্থ আস্থার প্রতিফলন।

এদিকে কনার ডিভোর্সের খবরের মধ্যেই আরেকটি প্রাসঙ্গিক তথ্য উঠে এসেছে অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে ঘিরে। কিছুদিন আগেই ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যা প্রচেষ্টা মামলায় তার নাম অভিযুক্তদের তালিকায় উঠে আসে। ‘জুলাই আন্দোলনের’ সময়কার ওই মামলায় ফারিয়া ২০৭ নম্বর আসামি হিসেবে অভিযুক্ত হন। এরপর গত ১৮ মে থাইল্যান্ডে যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে আদালত পরদিনই তাকে জামিনে মুক্তি দেন।

এই ঘটনায়ও মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেই তার গ্রেপ্তার এবং মুক্তিকে রাজনৈতিক চক্রান্তের অংশ বলেও ব্যাখ্যা করেছেন। এরই মধ্যে কনার ডিভোর্সে তার নাম উঠে আসায় আবারও তিনি সংবাদের শিরোনামে।

দিলশাদ নাহার কনা দীর্ঘদিন ধরে দেশের সংগীত অঙ্গনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। তাঁর কণ্ঠে জনপ্রিয় গান শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে বারবার। ব্যক্তিজীবনে বিচ্ছেদের ধাক্কা তাকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে তার এই সাহসী প্রকাশ, সামাজিকভাবে গোপন না রেখে স্বচ্ছভাবে একটি সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত, অনেকের কাছেই ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ধরা পড়ছে।

এখন দেখার বিষয়, কনা ও ফারিয়া—দুজনই কি সামনের দিনগুলোতে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে আগের মতোই মনোযোগ দিতে পারবেন, নাকি এই ঘটনাগুলো তাঁদের নতুন কোনো মোড়ে নিয়ে যাবে। দেশের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে চলেছে, যার জন্য ভক্তরা এখনো তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েই দেখতে চান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত