রিয়াল-বেনফিকা দ্বৈরথ: পরিসংখ্যানে কার আধিপত্য?

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
রিয়াল-বেনফিকা দ্বৈরথ: পরিসংখ্যানে কার আধিপত্য?

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ–এ আজ আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং বেনফিকা। শেষ ষোলোর প্লে–অফ পর্বের এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা, কৌতূহল এবং প্রত্যাশা। কারণ এটি শুধুমাত্র একটি ম্যাচ নয়, বরং প্রতিশোধ, ইতিহাস এবং মর্যাদা রক্ষার লড়াই।

চলতি মৌসুমের গ্রুপ পর্বেই এই দুই দলের মধ্যে নাটকীয় এক লড়াই হয়েছিল, যা এখনো রিয়াল সমর্থকদের মনে তাজা ক্ষত হয়ে আছে। সেই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ এক গোলের ব্যবধানে হারলেও সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে পারত। কিন্তু ভাগ্য যেন অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর যোগ করা সময়ে ঘটে যায় অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। ম্যাচের ৯৮তম মিনিটে একটি ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন বেনফিকার গোলরক্ষক আনাতোলি ট্রুবিন। গোলরক্ষকের এমন নাটকীয় গোল শুধু ম্যাচের ফলই বদলায়নি, বদলে দিয়েছে পুরো টুর্নামেন্টের গতিপথ। সেই গোলের ফলে দুই গোলের ব্যবধানে হেরে রিয়ালকে বাধ্য হয়ে নামতে হচ্ছে প্লে–অফে।

এই ঘটনার পর থেকেই ম্যাচটি ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রতিশোধের আবহ। রিয়াল মাদ্রিদের মতো একটি ক্লাব, যাদের পরিচিতি ‘চ্যাম্পিয়নস লিগের রাজা’ হিসেবে, তাদের জন্য এমন পরিণতি নিঃসন্দেহে ছিল বড় ধাক্কা। ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাফল্যের ভারে সমৃদ্ধ ক্লাবটি কখনোই নিজেদের দুর্বল ভাবতে রাজি নয়। ফলে আজকের ম্যাচটি তাদের জন্য শুধুমাত্র পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার লড়াই নয়, বরং নিজেদের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের সুযোগ।

অন্যদিকে বেনফিকার জন্য এটি আত্মবিশ্বাসের আরেকটি পরীক্ষা। পর্তুগালের এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি ইতোমধ্যেই দেখিয়েছে, তারা বড় দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখে। রিয়ালের বিপক্ষে তাদের সাম্প্রতিক জয় শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং পুরো ইউরোপকে একটি বার্তা—বেনফিকা এখন আর শুধুই ইতিহাসের দল নয়, তারা বর্তমানেও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এই দুই দল এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে। এই চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই জয় পেয়েছে বেনফিকা, আর রিয়াল জিতেছে মাত্র একবার। প্রথম দেখা হয়েছিল ১৯৬২ সালে ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালে, যেখানে বেনফিকা ৫–৩ গোলে জয় পায়। সেই জয় ছিল তাদের ইতিহাসের অন্যতম গৌরবময় মুহূর্ত। এরপর ১৯৬৪–৬৫ মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে আবার মুখোমুখি হয় দুই দল। লিসবনে প্রথম লেগে ৫–১ গোলে জয় পেলেও দ্বিতীয় লেগে মাদ্রিদে ২–১ গোলে হারে বেনফিকা। তবে দুই লেগ মিলিয়ে তারাই এগিয়ে ছিল। সর্বশেষ চলতি মৌসুমের গ্রুপ পর্বের ম্যাচেও জয় পেয়েছে বেনফিকা।

এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে বেনফিকাকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখছে। তবে ফুটবল শুধুমাত্র পরিসংখ্যানের খেলা নয়। মাঠের পারফরম্যান্স, কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা এবং মুহূর্তের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করে দেয় ম্যাচের ভাগ্য।

বেনফিকার কোচ জোসে মরিনিও ম্যাচের আগে সতর্কতার সুরে বলেছেন, রিয়াল মাদ্রিদকে কখনোই অবমূল্যায়ন করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, আহত রাজা সব সময়ই সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়। তাঁর এই মন্তব্যে ফুটে উঠেছে রিয়ালের প্রতি সম্মান, একই সঙ্গে নিজের দলের প্রতি আত্মবিশ্বাস।

তিনি আরও বলেছেন, তাঁর দল পরিকল্পনা, লক্ষ্য এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার জন্য তাঁর খেলোয়াড়রা প্রস্তুত।

রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এই ম্যাচটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাদের ইতিহাসে এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব অপরিসীম। অসংখ্যবার শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। এই টুর্নামেন্টে তাদের প্রত্যাবর্তনের গল্প, নাটকীয় জয় এবং অবিশ্বাস্য মুহূর্ত ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে।

সমর্থকরাও অপেক্ষা করছেন, তাঁদের প্রিয় দল আবারও সেই চেনা রূপে ফিরে আসবে কিনা। কারণ বড় দলগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তারা সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে জানে। রিয়াল মাদ্রিদ বারবার প্রমাণ করেছে, তারা কখনোই সহজে হার মানে না।

অন্যদিকে বেনফিকার সমর্থকরাও আশাবাদী। তারা বিশ্বাস করেন, তাদের দল আবারও ইতিহাস তৈরি করতে পারবে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাদের সেই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এই ম্যাচের ফলাফল শুধু একটি দলের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং এটি নির্ধারণ করবে কোন দল তাদের স্বপ্নের যাত্রা চালিয়ে যেতে পারবে। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে জায়গা পাওয়া মানেই আরও বড় লড়াই, আরও বড় চ্যালেঞ্জ।

সবশেষে বলা যায়, আজকের এই ম্যাচটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, এটি আবেগ, ইতিহাস এবং প্রতিশোধের লড়াই। পরিসংখ্যান বেনফিকার পক্ষে থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞতা এবং ঐতিহ্য তাদের কখনোই পিছিয়ে রাখে না।

ফুটবলপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন সেই মুহূর্তের জন্য, যখন মাঠে গড়াবে বল এবং শুরু হবে আরেকটি ইতিহাসের অধ্যায়। শেষ পর্যন্ত কে হাসবে শেষ হাসি—বেনফিকা, নাকি রিয়াল—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত