প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিএনপি সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণ করবেন। মঙ্গলবার সকালে নিজেই গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মিলন। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ চমকপ্রদ খবরে সংশ্লিষ্ট মহল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মিলন সহ অন্যান্য মন্ত্রিসভার সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন।
এহসানুল হক মিলন চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বিএনপির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয়, এবং বিশেষত শিক্ষা খাতে তার কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। শিক্ষাক্ষেত্রে তার পূর্ববর্তী দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতা এবার নতুন মন্ত্রিসভার কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণের এই প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে বিএনপি জোট সরকারের গঠন প্রক্রিয়া গোপনীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। দলের স্থায়ী ও ন্যাশনাল লেভেলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন মন্ত্রিসভার কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় মন্ত্রিসভার আকার ৩৫ থেকে ৪০ সদস্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীর মধ্যে মিলনের অবস্থান পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে আলোচিত।
মিলনকে শপথের ডাক মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া গত কয়েকদিন ধরে সুনির্দিষ্টভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং সংসদ সচিবালয় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মিলনের হাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তার দায়িত্ব কার্যকর হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিলনের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে চাঁদপুর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে নতুন দিকনির্দেশনা আসবে। শিক্ষা খাতে তার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা নতুন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া মিলনের শপথ গ্রহণ স্থানীয় জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আস্থাও বৃদ্ধি করতে পারে।
মিলনের শপথ গ্রহণের সময়সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করবেন, এরপর অন্যান্য মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে মিলন ইতিমধ্যেই শপথ গ্রহণ করেছেন এবং এবার মন্ত্রিসভার দায়িত্বও নিলে তার রাজনৈতিক দায়িত্ব দ্বিগুণ হবে।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, মিলনের শপথ গ্রহণ দলের নীতিমালা ও জনপ্রতিনিধিত্বের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নবীন ও প্রবীণ নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এই মন্ত্রিসভা দেশের জনগণের প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এনিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে মিলনের নেতৃত্বে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও সংস্কারের মাধ্যমে দেশের শিক্ষার মানোন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে মিলনের দায়িত্ব কার্যকর হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে নির্বাচিতদের অংশগ্রহণে গঠিত মন্ত্রিসভার মাধ্যমে সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন আরও শক্তিশালী হবে।