জামায়াত রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ডেকেছে আজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
জামায়াত ডেকেছে রাজধানী বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীতে আজ বিক্ষোভের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যা দেশব্যাপী চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রকাশ করা হবে। মঙ্গলবার বেলা তিনটায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হবে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজন করা এই বিক্ষোভের লক্ষ্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের অনিশ্চয়তার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন সাংবাদিকদের জানান, “আজকের বিক্ষোভ মিছিল সরকারের চলমান নীতিমালা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব এবং সাধারণ মানুষের উপর যে চাপ তৈরি হয়েছে তা তুলে ধরার জন্য ডাকা হয়েছে। আমরা চাই জনগণ জানতে পারুক, দেশের পরিস্থিতি কতটা সংকটজনক এবং তা মোকাবিলায় তাদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।”

এর আগে সোমবারও একই স্থানে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট বিক্ষোভ আয়োজন করেছিল। ওই বিক্ষোভে রাজনৈতিক সমালোচনা, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং সরকারের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে ধরার পাশাপাশি সমাবেশে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, নির্বাচনের ফলাফল এবং সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা এই বিক্ষোভকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতের এই বিক্ষোভ মূলত একটি সাংগঠনিক বার্তা বহন করছে। দেশের জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি দলটি নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্ত করার জন্য এটি একটি কৌশল। বিশেষ করে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সময় লাগা, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে অনিশ্চয়তা এবং জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু না হওয়া এই বিক্ষোভের পেছনে প্রভাব ফেলেছে।

শহরের কেন্দ্রস্থলে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল সাধারণত রাজনৈতিক এবং নাগরিক অধিকারকে তুলে ধরার একটি মাধ্যম। জামায়াত এই বিক্ষোভকে গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণ পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চায়। মিছিল ও সমাবেশে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে বক্তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। অংশগ্রহণকারীরা মূলত দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শাসনের স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।

রাজধানীর সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের জন্য এই বিক্ষোভ একটি সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক দলগুলোর এই ধরনের কার্যক্রম দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে দেন যে, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মমাফিক বিক্ষোভ আয়োজন করা হলে তা রাজনৈতিক সমালোচনার একমাত্র শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।

জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ না হওয়া, সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়গুলো এবং বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ না হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন জল্পনা রয়েছে। জামায়াতের এই বিক্ষোভের মাধ্যমে তারা তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবেন এবং সরকার ও জনগণ উভয়কে তাদের অবস্থান জানাতে পারবেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আজকের এই বিক্ষোভ দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নাগরিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এটি বিরোধী দলগুলোর শক্তি প্রদর্শনেরও সুযোগ তৈরি করছে। মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা সরকারের কর্মকাণ্ড, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং জনগণের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো সামনে তুলে ধরবেন।

তবে নিরাপত্তা বাহিনীও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ বিক্ষোভ মিছিলের সময়ে সড়ক ও পথচারীর নিরাপত্তা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিক্ষোভের মাধ্যমে জামায়াত দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের অবস্থান শক্ত করতে চায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের মানুষের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা ও ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরাই মূল উদ্দেশ্য। এছাড়া এটি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং জনগণের মধ্যে ভোট ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত