প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা সোমবার রাত ঢাকায় পৌঁছেছেন। ঢাকার নেপাল দূতাবাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দূতাবাস জানায়, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছেন। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি। এই সফর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রতিফলন হিসেবে গুরুত্ব বহন করছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা শর্মার এই সফর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছরের ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ারের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। এবার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই মুহূর্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে, যা দেশের নতুন রাজনৈতিক গতিশীলতার সূচনা করেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যা এখন শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে।
নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের জনগণ ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে একটি সাংবিধানিক গণভোটেও অংশগ্রহণ করেছে। এই গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সমন্বয় দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার স্থায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকায় আসা নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদল এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের মধ্যে বাংলাদেশ-নেপাল কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব বৃদ্ধিতে অবদান রাখবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং কূটনৈতিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা গড়ে উঠতে পারে।
নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ। তবে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় এবং স্বচ্ছ প্রমাণ করবে। বাংলাদেশি কূটনীতিকরা আশা করছেন, নেপালের এই সফর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতার পথ তৈরি করবে।
বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা শর্মা সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপকালে বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ফলে আমরা দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে পারব। আমি এখানে এসেছি কেবলমাত্র শুভেচ্ছা জানাতে নয়, বরং দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও দৃঢ় করার জন্য।”
ঢাকা পৌঁছানোর পর বালা শর্মার সফর চলাকালীন সময়ে তার প্রতিনিধিদল বিভিন্ন কূটনৈতিক বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নেবে। এসব বৈঠকে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, বাণিজ্য, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করার বিষয়গুলো প্রধান আলোচনার বিষয় হিসেবে থাকছে।
বাংলাদেশের নতুন সরকার এবং নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে এই সফরকে একটি ইতিবাচক সূচনা হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠক দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারকে সামনে নিয়ে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকায় আগমন দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
নেপালের এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বীকৃতি বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, এটি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রকল্প ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলবে।