অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখন ঝুঁকির মুখে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখন ঝুঁকির মুখে

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টানা দারুণ শুরুর পরেও অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে পৌঁছার আশা কেবল “কাগজে কলমে” টিকে আছে। ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়নরা গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে এসে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে, যেখানে শেষ ম্যাচে জয় সত্ত্বেও তাদের বিদায়ের সম্ভাবনা প্রবল।

অজিরা গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে আশা জাগানো ক্রিকেট উপহার দিয়েছেন, কিন্তু পরের দুই ম্যাচে ব্যর্থতা তাদের বিশ্বকাপ যাত্রাকে একেবারে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একক ম্যাচের হার অস্ট্রেলিয়াকে বিপাকে ফেলেছে। শ্রীলঙ্কার কাছে হারের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে গেছে। ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বিদায়ের শঙ্কা অজিদের জন্য এক নতুন বাস্তবতা।

যদিও পরিসংখ্যান এবং সম্ভাবনার আলোকে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়ার সামনে এখনও ক্ষীণ আশা রয়েছে। বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ে নামবে মাঠে, আর এই ম্যাচের ফলাফলের উপর নির্ভর করছে অজিদের ভবিষ্যৎ। জিম্বাবুয়ে যদি এই ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে তারা সরাসরি সুপার এইটে পৌঁছে যাবে এবং অস্ট্রেলিয়ার জন্য আর কোনো সমীকরণ থাকবে না। তবে জিম্বাবুয়ে যদি আয়ারল্যান্ডের কাছে হেরে যায়, তবে অজিদের কাছে এক শেষ সুযোগ বেঁচে থাকবে।

এই শেষ সম্ভাবনার জন্য অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমে অবশ্যই নিজেদের শেষ ম্যাচে ওমানকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে। সেই ক্ষেত্রে নেট রান রেটে জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডকে পেছনে ফেলে সুপার এইটে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু এখানে প্রকৃতির অনিশ্চয়তাও এক বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলে বা ম্যাচের ফলাফলে বিলম্ব ঘটলে, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ স্বপ্ন তৎক্ষণাৎ শেষ হয়ে যেতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এমন চাপে থাকা নতুন নয়। আইসিসি টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে বিদায় পাওয়া তাদের জন্য এক দুর্ভাগ্যজনক হলেও পরিচিত অভিজ্ঞতা। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শেষবার তারা গ্রুপ পর্ব পার করতে পারেনি। তার আগের ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারার পরও অস্ট্রেলিয়া গ্রুপ পর্বে বিদায় নিয়েছিল। আরও দূরে গেলে, ১৯৯২ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় হয়েছিল অজিদের।

তবে অস্ট্রেলিয়ার এই দল এখনও আত্মবিশ্বাসী। অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মার্কাস স্টোয়নিস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং কেন উইলিয়ামসনের মতো খেলোয়াড়রা টিমকে ইতিবাচক রাখার জন্য মাঠে রয়েছেন। কোচ এবং দলের মেন্টাল কোচও খেলোয়াড়দের মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। দলের ভেতরের পরিবেশ এবং নেতৃত্বের দক্ষতা তাদের শেষ মুহূর্তের সম্ভাবনাকে টিকে রাখছে।

বিশ্বকাপে এমন প্রতিযোগিতার মধ্যে কোনো দলই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ছোট পার্থক্য, নেট রান রেটের হিসাব, খেলার পরিস্থিতি এবং কখনো কখনো বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বাধা পর্যন্ত সব কিছু মিলিয়ে গ্রুপ পর্বের ফলাফল নির্ধারিত হয়। অস্ট্রেলিয়ার জন্য এখন শুধু নিজেদের খেলার ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়; অন্য দলের ফলাফলের ওপরও তাদের ভাগ্য নির্ভর করছে।

বিশ্বকাপের ভক্তদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার এই অবস্থা এক এক ধরণের নাটকীয়তা এনে দিয়েছে। যে দল শুরুর দুই ম্যাচে দারুণ খেলেছে, তার এখন শেষ মুহূর্তের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। এই চাপ এবং অনিশ্চয়তা ক্রিকেট প্রেমীদের মনোযোগ ধরে রাখতে বাধ্য করছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতি নতুন নয়, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দল যখন গ্রুপ পর্বে বিদায়ের মুখে থাকে, তখন তা ভক্তদের জন্য সত্যিই অপ্রত্যাশিত।

অস্ট্রেলিয়ার জন্য এখন একমাত্র পথ হলো মনোবল বজায় রাখা, নিজেদের শেষ ম্যাচে সর্বোচ্চ স্কোর করা এবং নেট রান রেটে সম্ভাব্য পার্থক্য তৈরি করা। যদি তারা এই চ্যালেঞ্জে জয়ী হয়, তবে সুপার এইটে ওঠার রাস্তা খোলা থাকবে। অন্যথায়, ইতিহাসে আবারও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়ে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন পর শঙ্কার মধ্যে পড়বে।

সাম্প্রতিক কয়েকটি টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার এমন চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি ভক্তদের মনে রোমাঞ্চ তৈরি করেছে। কেবল ফলাফলই নয়, বরং প্রতিটি ম্যাচের আবহ এবং প্রতিযোগীদের পারফরম্যান্সও বিশ্বকাপকে আরও নাটকীয় করে তুলছে। অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুই ম্যাচে ব্যর্থতা তাদের কাছে কঠিন হলেও, প্রতিটি ক্রিকেট ভক্ত জানে, অজিরা স্বপ্ন দেখতে কখনো ছাড়েনি।

অতএব, অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যাত্রা এখন অনিশ্চয়তার এক চূড়ান্ত পর্যায়ে। শেষ মুহূর্তের একটিমাত্র জয় তাদের জন্য স্বপ্নকে টিকে রাখতে পারে, অন্যদিকে ব্যর্থতা তাদের দীর্ঘদিনের ইতিহাসে আবারও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের দুঃখজনক অভিজ্ঞতা হিসেবে সংরক্ষণ করবে। ভক্তরা এখন চেপে ধরে টিভি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছেন, আশা করছেন যে, অস্ট্রেলিয়া তাদের ক্রিকেট শক্তি দেখাবে এবং শেষ মুহূর্তে সুপার এইটে পৌঁছাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত