প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি), যখন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন জামায়াতে ইসলামী। দীর্ঘ সময় ধরেই দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে শপথ গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিদ্যমান ছিল। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ নেন জামায়াতের এমপি সদস্যরা।
শপথ গ্রহণের আগে দলটির অভ্যন্তরীণ অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারের ইস্যুতে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের প্রকাশ করেছিলেন, যদি বিএনপি সংসদে শপথ গ্রহণ না করে, তবে জামায়াতের কেউ এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করবে না। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে শপথ প্রক্রিয়া নিয়ে যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি হয়।
তবে পরে বিএনপির সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের সমন্বয় এবং জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে শপথের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলটির নবনির্বাচিত সদস্যরা সংসদ ভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসে, এবং শপথ গ্রহণের বিষয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্তে উপনীত হন। ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছে।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে নতুন সরকারের এমপি হিসেবে শপথ নেন বিএনপির সদস্যরা। শপথ গ্রহণের পরই বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার একটি স্থিতিশীল চিত্র ফুটে উঠেছে।
দুপুরের পর থেকে বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেবেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন এবং আনুষ্ঠিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে, যা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে কার্যকরভাবে সক্রিয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণের প্রতীক। অন্যদিকে, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় বসছে জামায়াতে ইসলামী। এই দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান। রাজনৈতিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, এই বিরোধী দলের উপস্থিতি সংসদের কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত ও দায়িত্বশীল করবে।
রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি এখন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি, যখন বসতে পারে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন। এই অধিবেশন নতুন সরকারের কার্যক্রম, নীতি প্রণয়ন এবং দেশব্যাপী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষত শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা দায়িত্বশীল ও নৈতিকভাবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করেছেন, জামায়াতের এমপি সদস্যদের শপথ গ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে। নির্বাচিত সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে পারলে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া আরও স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ হবে। এছাড়া বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সংলাপ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সমন্বিত ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালিত করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শপথ গ্রহণের এই প্রক্রিয়া কেবল প্রতীকী নয়, বরং এটি নতুন সংসদে দায়িত্বশীলতা, নীতি প্রণয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সংসদে নতুন সদস্যরা যদি তাদের দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে দেশের নীতি ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে।
সংবাদটি আরও প্রমাণ করছে যে, বিএনপি ও জামায়াতের সংলাপ এবং সমন্বয় দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দুই দলের মধ্যে সমঝোতা ও সহযোগিতার একটি নতুন দিক উন্মোচিত হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।
এভাবে, মঙ্গলবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দায়িত্বশীল ও ন্যায্যভাবে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই নতুন প্রক্রিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ ও দায়িত্বশীল করার দিকে একটি বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।