প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি তিনি। শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা বেলা পৌনে ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে সম্পন্ন হয়।
রুমিন ফারহানা এবারের নির্বাচনে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন এবং বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন। স্থানীয় জনগণের আস্থা ও সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে তার এই জয়কে উল্লেখ করা হচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়া রুমিন ফারহানা রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের পরিচায়ক। তিনি সংসদে একজন স্বাধীন ভয়েস হিসেবে জাতীয় নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন।
এর আগে, বেলা পৌনে ১১টার দিকে তারেক রহমানসহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণের পর তাদের সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এ তথ্য বিএনপির মিডিয়া সেল নিশ্চিত করেছে।
বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণ করবেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রিপদে দফতর বণ্টন ও আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির ষষ্ঠবারের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণ। অন্যদিকে, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় বসছে জামায়াতে ইসলামী, যার সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রুমিন ফারহানার শপথ গ্রহণ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদে অংশ না নেওয়া বিষয়টি একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করছে। এটি প্রমাণ করে যে, স্বাধীন প্রার্থী হিসেবে তিনি সংসদে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তার এই পদক্ষেপ স্থানীয় জনগণের স্বার্থ এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে।
নির্বাচন পরবর্তী সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে রুমিন ফারহানা সক্রিয় ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ, সমস্যাগুলো বুঝতে আগ্রহী হওয়া এবং কার্যকর সমাধান দেওয়ার মনোভাব তাকে জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি এখন আইন প্রণয়ন ও নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরাসরি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ গ্রহণ না করা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা। রুমিন ফারহানা তার নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন এবং স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখতে চাইছেন। ফলে সংসদে তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে কোনও ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা বাইরের চাপ থেকে নিরপেক্ষ থাকার সম্ভাবনা বেশি।
এছাড়া, নতুন সংসদে শপথ নেওয়া সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে। সংসদে নতুন সদস্যদের মধ্যে স্বতন্ত্র এবং দলীয় প্রার্থীরা একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে জাতীয় নীতি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করতে পারবেন।
বিশেষভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ এলাকার জনগণ রুমিন ফারহানার শপথ গ্রহণকে নতুন সম্ভাবনার সূচক হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের আশা, তিনি তাদের চাহিদা এবং সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরবেন এবং কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করবেন। স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে তার রাজনৈতিক অবস্থান এবং দায়িত্বশীলতা স্থানীয় জনগণকে আরও আত্মবিশ্বাসী করবে।
এভাবে, শপথ গ্রহণের মাধ্যমে রুমিন ফারহানা সংসদে নিজস্ব অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। যদিও সংবিধান সংস্কার পরিষদে অংশ নেননি, তার সাংসদিক দায়িত্ব পালন এবং স্থানীয় জনগণের জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা স্বাধীন প্রার্থী এবং স্থানীয় জনগণের সম্পর্ককে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বসার সম্ভাবনা রয়েছে। শপথ নেওয়া সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশের নীতি প্রণয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে রুমিন ফারহানার অংশগ্রহণ স্থানীয় জনগণের আশা, দেশব্যাপী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং নীতি প্রণয়নে নতুন দিক উন্মোচন করবে।