জাতির প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সালাহউদ্দিন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
জাতির প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: সালাহউদ্দিন

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে নিরঙ্কুশ সমর্থন দিয়েছে, সেই প্রত্যাশা পূরণে দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও জানান, জুলাই সনদে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকার গঠনের পর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ গণতান্ত্রিক উপায়ে সকল বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্র হবে। আগে যেখানে কিছু বিষয় ছিল সীমাবদ্ধভাবে আলোচিত, এবার সেই কেন্দ্রবিন্দু হবে জাতীয় সংসদ।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে এবং রাষ্ট্রকে নতুন ধারায় এগিয়ে নিতে সংসদ প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর কোনো সদস্যকে শপথ পাঠ করানোর এখতিয়ার নেই। এ কারণে কোনো শপথ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বলেন, “আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনে এখানে এসেছি। আগামীতেও রাষ্ট্র পরিচালনা হবে পুরোপুরি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে।”

তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর শপথ, সরকার গঠন এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপরিচালনা—সবকিছুই সংবিধান অনুযায়ী হয়েছে এবং হবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, সংসদীয় দলের বৈঠকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নেতা নির্বাচিত করে রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের চিঠি পাঠানো হয়েছে।

শপথ প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, গণভোটের রায় ও জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংশোধনের পর তৃতীয় তফসিলে শপথের ফরম সংযুক্ত করার বিষয়টি সংসদ নির্ধারণ করবে। তিনি সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ ২(ক) ধারার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পাঠ করাতে অপারগ হলে বা অনুপস্থিত থাকলে, তিন দিনের মধ্যে তাদের মনোনীত প্রতিনিধি শপথ পড়াবেন। তারপরও যদি তা না হয়, পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে শপথ পাঠ করাবেন। এই বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ দিয়েছেন।”

সালাহউদ্দিন বলেন, শপথ গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং যারা শপথ নিয়েছেন, উপস্থিত সবাই ওই সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেছেন।

তিনি আরও বলেন, সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তারেক রহমান দলের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দুটি নির্দেশ দিয়েছেন। প্রথমত, কোনো সংসদ সদস্য ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি গ্রহণ করবেন না এবং দ্বিতীয়ত, সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি কোনো প্লট গ্রহণ করবেন না। তিনি যোগ করেন, “আজ থেকে পরিবর্তনের শুরু। সংসদ সদস্য হলেই কেউ বিশেষ সুবিধাভোগী হবে—এ ধারণা বদলাতে হবে।”

শপথ গ্রহণের আগে সালাহউদ্দিন জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ফরম থাকলেও বিএনপির কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি। এছাড়া সংবিধানে এটি এখনও ধার্য করা হয়নি। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সংবিধানে তা আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে হবে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিধান সংবিধানে নেই এবং বিএনপি সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলেছে, আগামীতেও চলবে বলে তিনি জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় সংসদ সব বিষয়ে আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে এবং জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহণ। অন্যদিকে, ৬৮টি আসন নিয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় বসছে জামায়াতে ইসলামী, যার সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান।

এভাবে, শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন সংসদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিএনপি নেতারা সংবিধান মেনে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং আগামী দিনে জনগণের স্বার্থ রক্ষায়, রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং নীতি প্রণয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত