আ ন ম এহসানুল হক মিলন: আবারও শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বের আলোচনায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
আ ন ম এহসানুল হক মিলন: আবারও শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বের আলোচনায়

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন আবারও শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন—এমন আলোচনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন বর্তমানে সরগরম। তার পুনরায় শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে এবং শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উৎসাহ এবং প্রত্যাশার ছায়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আ ন ম এহসানুল হক মিলনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তাকে এই দায়িত্বের জন্য বিশেষভাবে উপযুক্ত করে তুলেছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় তিনি যেসব ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন, তা আজও শিক্ষাব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে স্মরণযোগ্য। তার পূর্ব অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শিক্ষা খাতে কাজের ধারাবাহিকতা তাকে পুনরায় এই দায়িত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর থেকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন মিলন। সে সময় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি দেশের পাবলিক পরীক্ষার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন। নকল ও অসামঞ্জস্য নিরোধে তিনি প্রটোকল ছাড়াই হেলিকপ্টারে চড়ে একই দিনে একাধিক শিক্ষাবোর্ডের অসংখ্য পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করতেন। এমন উদ্ভাবনী মনোভাব এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর তার কার্যকর দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক।

তার পূর্ববর্তী দায়িত্বকাল শিক্ষার্থীদের জন্য আরও স্বচ্ছ ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে কারিকুলাম উন্নয়ন, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য তার অভিজ্ঞতা শিক্ষানীতি প্রণয়নে কার্যকর অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষা খাতের সংশ্লিষ্ট মহলও এই প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে যে, মিলনের নেতৃত্বে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং শিক্ষার্থীবান্ধব হবে। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারী উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিলনের পুনরায় শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা শুধু শিক্ষা খাতের জন্য নয়, জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তা গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ গঠনে তার অবদান অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের শিক্ষা খাতকে আরও দক্ষ, উদ্ভাবনী এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার ক্ষেত্রে মিলনের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার নেতৃত্বে শিক্ষা খাতের নীতি প্রণয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণে মিলনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সরগরম আলোচনা চললেও, এটি দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং নীতি প্রণয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মিলনের অভিজ্ঞতা কার্যকর হতে পারে।

এভাবে, আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলে দেশের শিক্ষা খাতের গুণগত মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধিসহ শিক্ষার্থীদের জন্য আরও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে। তার পুনরায় নেতৃত্ব শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন উদ্যম, কার্যকর নীতি এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত