প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের হাতে মন্ত্রিসভার সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করবেন। ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে সব নির্বাচিত মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং শপথের আনুষ্ঠানিকতার বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়েছে।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই মন্ত্রিসভায় ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী থাকবেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, প্রশাসনিক এবং প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা। মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, ফরহাদ হোসেন আজাদ, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, আজিজুল বারি হেলাল, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহমেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, আলী নেওয়াজ খৈয়াম এবং আমিনুল হক। এই তালিকায় একজন টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী থাকলেও, সকলেই দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজের দায়িত্ব পালন করবেন।
পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন দেশের সুপরিচিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বরা। মন্ত্রিসভার পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে আছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এজেড এম জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান, আবদুল আওয়াল মিন্টু, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আমিনুর রশিদ, আফরোজা খানম রিতা, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, আসাদুল হাবীব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের সুমন, দিপন দেওয়ান, আনম এহসানুল হক মিলন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফরিদ মাহবুব আনাম এবং শেখ রবিউল আলম। এদের মধ্যে কয়েকজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী থাকলেও, সকলেই সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন মন্ত্রিসভার এই বিন্যাস দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে চালাতে সাহায্য করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার মূল লক্ষ্য হবে সরকারি কাজের স্বচ্ছতা, নীতি নির্ধারণে স্থিতিশীলতা এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। প্রতিমন্ত্রীরা পূর্ণমন্ত্রীদের সহায়তায় বিভিন্ন বিভাগের নীতি বাস্তবায়ন এবং জনসেবা কার্যক্রমের তদারকি করবেন।
রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে বলা হচ্ছে, প্রতিমন্ত্রীরা মূলত দফতরের নীতি প্রণয়ন, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবেন। অন্যদিকে, পূর্ণমন্ত্রীরা নীতিনির্ধারণ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং সরকারী নীতি বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন। এই দুই স্তরের মন্ত্রণালয় কাঠামো দেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
মন্ত্রিসভায় সামগ্রিক ভারসাম্য রাখা হয়েছে। নতুন সদস্যদের মধ্যে অনেকেই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং প্রশাসনিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ। তারা ইতিমধ্যেই সংসদে শপথ নিয়েছেন এবং সরকারি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথগ্রহণের পর নতুন মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান করবেন, যেখানে দায়িত্ব বণ্টন এবং নীতিনির্ধারণের মূল আলোচনাসহ বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন মন্ত্রিসভা দেশের জনসেবা, শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্য খাত, অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেবে। প্রতিমন্ত্রীরা পূর্ণমন্ত্রীদের নির্দেশনা অনুযায়ী নীতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন। এতে সরকারি কর্মপরিকল্পনা আরও কার্যকর হবে এবং সাধারণ জনগণের দফতর সম্পর্কিত সেবা আরও সহজ ও দ্রুততর হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশের জন্য নতুন প্রশাসনিক কাঠামোর সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা দেশের উন্নয়নমূলক নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
এই মন্ত্রিসভা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটেও নতুন রূপ দিবে। প্রতিমন্ত্রীরা সরকারের স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি এবং দফতরের নীতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে ত্বরান্বিত পরিবর্তন আনবেন। অন্যদিকে, পূর্ণমন্ত্রীরা উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বশীল হবেন।
এভাবে নতুন মন্ত্রিসভার গঠন এবং প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন ধারার সূচনা করবে। শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সরকারের নীতি বাস্তবায়ন, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কাজ শুরু করবেন।