প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় যশোর-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের স্থান নিশ্চিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ খবরটি তার বড় ভাই শান্তনু ইসলাম সুমিত নিশ্চিত করেছেন। এদিন বিকেলেই বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন শপথ পাঠাবেন।
শান্তনু ইসলাম সুমিত জানিয়েছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের জন্য ফোন পেয়েছেন অমিত। তবে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন, তা এখনও জানানো হয়নি। শপথগ্রহণের পর দফতর বণ্টন করা হতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দায়িত্বে বাবা তরিকুল ইসলামের পথ অনুসরণ করে এবার অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দেশের সরকারের কার্যক্রমে অংশ নিতে যাচ্ছেন। প্রয়াত তরিকুল ইসলাম বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং চারবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
যশোর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত এই নেতা ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে ২ লাখ ১ হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুল কাদের পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট। নির্বাচনে পাওয়া এই ব্যাপক ভোটের ব্যবধান অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের জনপ্রিয়তা এবং জনগণের আস্থা প্রতিফলিত করে।
১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে। তিনি ১৯৯১ সালে এসএসসি এবং ১৯৯৩ সালে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৬ সালে বিএসসি (সম্মান) এবং ১৯৯৭ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন প্রাণরসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞানে। ২০০২ সালে তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তিনি ফজলুল হক হলে হয়ে টিভি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিয়েছেন, যা তার নেতৃত্বের দক্ষতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা প্রমাণ করে।
রাজনীতির পাশাপাশি অনিন্দ্য ইসলাম অমিত পেশাগত জীবনে সফল। তিনি ল্যাবস্কান মেডিকেল সার্ভিসেস লিমিটেড ও দৈনিক লোকসমাজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া যশোর মেডিসিন ব্যাংক, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, যশোর ইনস্টিটিউট, বাংলা একাডেমি, যশোর প্রেস ক্লাব, যশোর চেম্বার অব কমার্স, যশোর ক্লাব, ঝিনাইদহ এক্স ক্যাডেট অ্যাসোসিয়েশন, গ্রাজুয়েট বায়োকেমিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ বায়োকেমিকাল সোসাইটির আজীবন সদস্য হিসেবে সামাজিক, শিক্ষামূলক ও পেশাগত কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
রাজনীতিতে তার অবদানও উল্লেখযোগ্য। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তিনি নতুন সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যশোর-৩ আসনের এই নির্বাচিত সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার ফলে এলাকার জনগণ সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। শিক্ষার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যখাত, অবকাঠামো এবং স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে তার কার্যকর ভূমিকা এলাকার মানুষের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তার ব্যাকগ্রাউন্ড এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা নতুন সরকারের কর্মকাণ্ডকে আরও দক্ষভাবে পরিচালনায় সাহায্য করবে।
এছাড়া পরিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যও অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের শক্তি হিসেবে কাজ করবে। তার বাবা প্রয়াত তরিকুল ইসলাম চারবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং পারিবারিক নেটওয়ার্ক তাকে মন্ত্রিসভায় কার্যকর ভূমিকা নিতে সহায়তা করবে।
শপথগ্রহণের পরে নতুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে দফতর বণ্টন এবং নীতিনির্ধারণসহ বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও এই প্রক্রিয়ার অংশ হবেন এবং দেশের নীতি-নির্ধারণে অবদান রাখবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তার শপথগ্রহণ দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর এবং স্বচ্ছ করতে সহায়ক হবে।
অমিতের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং যশোরের জন্যও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় জনগণ আশা করছেন, তিনি নতুন সরকারের মাধ্যমে এলাকার অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবেন। নতুন দায়িত্বে তার সক্ষমতা, পেশাগত দক্ষতা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। প্রতিটি মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্য সরকারের নীতি বাস্তবায়ন এবং জনসেবার উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন। অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের অন্তর্ভুক্তি সরকারের কার্যক্রমে দক্ষতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে, যা দেশের উন্নয়নযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।