প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বলিউড তারকাদের জীবন যেমন আলো ঝলমলে, তেমনি মাঝে মধ্যেই আইনি জটিলতা ও বিতর্কের মুখোমুখিও হতে হয় তাঁদের। এবার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একটি মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন আমিশা প্যাটেল। চেক বাউন্স সংক্রান্ত মামলায় আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় ভারতের একটি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বলিউডের এই অভিনেত্রীর নাম, যার ক্যারিয়ার একসময় ছিল ঈর্ষণীয় সাফল্যে ভরা।
ভারতের মোরাদাবাদ জেলার একটি আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি আর্থিক বিরোধের মামলায় নির্ধারিত শুনানিতে হাজির না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মামলাটির সূত্রপাত প্রায় এক দশক আগে, তবে সম্প্রতি আদালতের এই নির্দেশের মাধ্যমে বিষয়টি আবার নতুন করে সামনে এসেছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মোরাদাবাদের এক ইভেন্ট ম্যানেজার পবন ভার্মা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আমিশা প্যাটেলকে আমন্ত্রণ জানান। চুক্তি অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য তাঁকে ১৪ লাখ ৫০ হাজার রুপি পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। অভিযোগকারী দাবি করেন, নির্ধারিত অর্থ গ্রহণ করার পরও আমিশা প্যাটেল অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। বরং অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন এবং শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়েই চলে যান।
এই ঘটনার পর পবন ভার্মা তাঁর কাছ থেকে টাকা ফেরত চান। অভিযোগ রয়েছে, পরে আমিশা প্যাটেল ১০ লাখ রুপি ফেরত দিলেও বাকি ৪ লাখ ৫০ হাজার রুপির জন্য একটি চেক দেন, যা ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর বাউন্স করে। এর ফলে বিষয়টি আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে রূপ নেয় এবং আদালতের দ্বারস্থ হন অভিযোগকারী।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বকেয়া অর্থ পরিশোধের বিষয়ে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। এই অবস্থায় পবন ভার্মা আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর আদালত একাধিকবার সমন জারি করে আমিশা প্যাটেলকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত কয়েকটি শুনানিতে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।
সম্প্রতি আদালত তাঁকে আগামী ২৭ মার্চ সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিষয়টি এখন আইনি জটিলতার নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন আমিশা প্যাটেল। তাঁর দাবি, এই ঘটনা বহু পুরনো এবং তিনি ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্যই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আমিশা প্যাটেল জানিয়েছেন, তাঁর আইনজীবীরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তিনি এই অভিযোগের জবাব দেবেন। তিনি আরও দাবি করেছেন, প্রয়োজন হলে অভিযোগকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় বলিউড অঙ্গনেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, আমিশা প্যাটেল একসময় বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন। তাঁর অভিনীত একাধিক সিনেমা বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। বিশেষ করে গাদার ২ মুক্তির পর তিনি আবারও নতুন করে আলোচনায় আসেন। এই সিনেমাটি বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে এবং তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে।
বলিউড বিশ্লেষকরা বলছেন, জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তারকাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সতর্ক না থাকলে আইনি সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চেক বাউন্স সংক্রান্ত মামলা ভারতে একটি গুরুতর আইনি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। উত্তরপ্রদেশসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরনের মামলায় আদালত কঠোর অবস্থান নিয়ে থাকে। আদালতে হাজিরা না দিলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ।
এদিকে এই ঘটনা ভক্তদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছেন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝির ফল হতে পারে, যা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান হবে।
আমিশা প্যাটেলের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০০০ সালে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। তাঁর অভিনয়, সৌন্দর্য এবং ব্যক্তিত্ব তাঁকে দ্রুত জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। তবে ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময়ে তিনি বিতর্কের মুখেও পড়েছেন।
এই মামলার ভবিষ্যৎ এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আগামী মার্চ মাসে তিনি আদালতে হাজির হয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। আদালত তাঁর বক্তব্য এবং মামলার নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, তারকাদের জীবন যতই গ্ল্যামারপূর্ণ হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হবে এবং আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
বর্তমানে এই মামলার দিকে নজর রাখছে বলিউড, আইনজগত এবং ভক্তরা। আদালতে তাঁর হাজিরা এবং মামলার অগ্রগতি অনুযায়ী আগামী দিনে বিষয়টির নতুন মোড় নিতে পারে।