তারেক রহমান নিলেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯ বার
তারেক রহমান নিলেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ

প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এই শপথগ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি জয়ী হয়েছে ২০৯টি আসনে, এবং জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন। আদালতের নির্দেশনায় দুটি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়নি, এবং একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে একটি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় সাধারণভাবে প্রথাগত বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন। বিশেষভাবে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং দেশে অবস্থানরত বিদেশি অতিথিরা শপথ গ্রহণের সাক্ষী ছিলেন। অনুষ্ঠানের পুরো পরিবেশ ছিল যথেষ্ট মর্যাদাপূর্ণ ও সরল, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি দেশের দায়বদ্ধতা প্রতিফলিত করে।

এই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ায় নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দেশের নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব এসেছে। শপথ গ্রহণের সময় রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি এবং সরকারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এই কার্যক্রমের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি করেছে। নবনির্বাচিত এমপিরা সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে শপথ গ্রহণ করেন, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নির্বাচন এবং শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন একটি স্থিতিশীলতা আসবে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নির্বাচন-পরবর্তী অস্থিরতার পর দেশের জনগণ নতুন সরকারের প্রতি আশাবাদী। নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।

শপথ গ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনায় শাসন, ন্যায়বিচার ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার শপথ নিয়েছেন। পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্যরা সরকারের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। মন্ত্রিসভার গঠন নতুন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দেশের অগ্রগতির লক্ষ্যকে প্রতিফলিত করবে।

আন্তর্জাতিক মহলেও এই শপথগ্রহণকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশংসা করেছে। বিশেষভাবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো এই নতুন সরকারের কার্যক্রমকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব বহন করছে না, এটি দেশের সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণকারীদের জন্যও একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী মানুষদের আশা ও প্রত্যাশা নতুন সরকারের নীতি ও পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হবে। নতুন সরকার দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সামাজিক সেবার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই শপথ গ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে আরও স্থিতিশীল করবে। নির্বাচনের ফলাফল এবং সরকারের গঠন জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করবে। দেশের ভেতরে রাজনৈতিক সংলাপ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে।

সার্বিকভাবে, তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে এই শপথ গ্রহণ দেশের জন্য নতুন আশা এবং সমৃদ্ধির বার্তা নিয়ে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত