প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের অবস্থান এবং দায়িত্বও পরিবর্তিত হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে অবসরে গেছেন।
গতকাল তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানের পর সঙ্গে সঙ্গে কার্যত ড. ইউনূসের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায়। দেশের অন্যতম রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা, যেখানে তিনি দায়িত্বকালীন সময় থাকতেন, তার ভবিষ্যতও এখন প্রশ্নের মুখে। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ড. ইউনূস যমুনা ছেড়ে গুলশানের নিজস্ব বাসভবনে উঠবেন। এই স্থানান্তর সম্ভবত আগামী সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে। সরকারের এক সূত্র জানিয়েছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী যমুনায় উঠতে চাইলে ভবনটিতে কিছু সংস্কার প্রয়োজন হবে, যা সম্পন্ন হতে সময় লাগবে প্রায় দুই মাস।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গঠিত হয়েছিল। ৫৫৯ দিন দায়িত্ব পালনের পর গতকাল মঙ্গলবার তিনি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পদ থেকে বিদায় নেন। এই সময়ে তিনি দেশের নানামুখী নীতি ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শমূলক ভূমিকা পালন করেছেন। অবসরে গিয়েও তার প্রভাব ও অভিজ্ঞতা দেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে।
যমুনা থেকে বের হয়ে গুলশানের নিজস্ব বাসভবনে উঠার পর ড. ইউনূসের দৈনন্দিন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। জানা গেছে, তিনি আগের পেশায় ফিরে যাবেন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। বিশেষ করে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর তার নজর থাকবে। সম্প্রতি দেশে ১১৬তম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৭ মার্চ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুমোদন পায়। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে এবং অভিজ্ঞতায় বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রমে নতুন দিকনির্দেশনা ও স্থিতিশীলতা আশা করা হচ্ছে।
ড. ইউনূসের বিদায়ের পর রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের পাশাপাশি যমুনার ভবিষ্যত নিয়ে জনগণ ও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা হচ্ছে। একদিকে দেশে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় ভবনের ব্যবহার ও সংস্কার কার্যক্রম সময়োপযোগীভাবে সম্পন্ন করা নতুন সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। সরকারের সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে নতুন প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর যমুনায় উঠলে সেখানকার সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা হবে, যা ভবনটির কার্যকর ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত ও সরকারি দায়িত্বের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংযোগে নতুন ধারা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের পরিবর্তনের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব প্রজন্মকে নতুন দিক নির্দেশনা দিতে সহায়ক হবে। গুলশানে নিজস্ব বাসভবনে অবস্থান করার মাধ্যমে তিনি শিক্ষাক্ষেত্র এবং সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের সঙ্গে আরও সংযুক্ত থাকবেন।
এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছেন, ড. ইউনূসের সাপ্তাহিক কার্যক্রমের মধ্যে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাক্ষেত্রের গবেষণা ও সামাজিক প্রকল্পগুলোর পর্যবেক্ষণ বিশেষ গুরুত্ব পাবে। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন নীতি প্রবর্তনের পাশাপাশি তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। দেশের শিক্ষাক্ষেত্র ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত এই পদ পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও প্রশাসনিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ড. ইউনূসের দায়িত্ববিন্যাস ও স্থানান্তরের মাধ্যমে দেশে শিক্ষাক্ষেত্র, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রীয় ভবন ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে গুলশানে অবস্থান করে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে সহায়ক হবে।