প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ তার নির্বাচনি এলাকার চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শপথ নেওয়ার পরপরই নিজের নির্বাচনি এলাকায় যাত্রা শুরু করেছেন এমপি হাসনাত, এবং তিনি নিশ্চিত করতে চান যে দেবিদ্বারবাসীর নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ ব্যবসায়িক পরিবেশে কোনোভাবেই বিঘ্ন ঘটবে না। মঙ্গলবার রাতে নিউমার্কেট এলাকার দোকান মালিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে মোবাইল ফোনালাপে তিনি বাজার ইজারা সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি জানান, কাঁচাবাজারের নির্ধারিত এলাকা বাইরে কোনো চাঁদা নেওয়া হলে জনগণ স্বাভাবিকভাবে প্রতিবাদ গড়ে তুলবে এবং সেই অবস্থায় তিনি দায়িত্ব নেবেন না।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “আপনি কাঁচাবাজারের ইজারা নিয়েছেন। নির্দিষ্ট এলাকার ভেতরেই ইজারার টাকা তুলবেন। এর বাইরে চাঁদা নেওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ বাধা দেবে, তখন আমার কিছু করার থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি চাঁদা তুলবে, তার নাম শাহ আলম, যদি নির্ধারিত এলাকার বাইরে আসে, তাকে জনগণ আটকে রাখবে এবং পুলিশে সোপর্দ করবে। এমপি স্পষ্ট করেছেন, দেবিদ্বারে চাঁদাবাজদের কোনো স্থান থাকবে না এবং যারা তাদের আশ্রয় দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার কথাও জানিয়েছেন।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নিজের এলাকায় উপস্থিত হয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার মাধ্যমে হাসনাত আব্দুল্লাহ তার নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছেন। তিনি গ্রাম ও বাজারগুলো পরিদর্শন করে স্থানীয় সমস্যা ও জনমানুষের প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে শদিদ পরিবারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা তার অগ্রাধিকার। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে মার্চ মাসের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নবনির্বাচিত এমপির এই ধরনের সরাসরি হুঁশিয়ারি দেবিদ্বারের প্রশাসনিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চাঁদাবাজদের প্রতিরোধ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় আরও দৃঢ় হবে, যা ব্যবসায়ীদের নিরাপদ ও সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করবে। সাধারণ মানুষও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছেন, কারণ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ চাঁদাবাজি ও হুমকির কারণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে প্রভাবিত হচ্ছিল।
এমপি হাসনাতের এই পদক্ষেপ স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিটি বাজার ও গ্রামে নিয়মিত নজরদারি, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেবিদ্বারকে একটি শান্তিপূর্ণ এবং ব্যবসায়িকভাবে উন্নত এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
এই সতর্কবার্তা শুধু চাঁদাবাজদের জন্য নয়, বরং স্থানীয় জনগণকেও সচেতন করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমপি হাসনাত জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বার্থ রক্ষায় সরকারের সক্রিয় ভূমিকা প্রদর্শন করছেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন চাঁদাবাজদের কার্যক্রম দ্রুত ও কার্যকরভাবে বন্ধ করা হয়।
এনিয়ে দেবিদ্বারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ খুশি। তাঁরা মনে করছেন, এখন থেকে বাজারগুলোতে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকবে এবং আর কোনো চাঁদাবাজের ভয় বা হুমকিতে তাদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচিত এমপির উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শপথ গ্রহণের পরপরই নিজের নির্বাচনি এলাকায় প্রবেশ করে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা এবং চাঁদাবাজদের প্রতিরোধে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি স্থানীয় জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং প্রশাসন ও সরকারের মধ্যে দৃঢ় সমন্বয় নিশ্চিত করবে।
সবমিলিয়ে, কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর এই কঠোর বার্তা স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আইন ভঙ্গকারীদের কোনো ছাড় নেই এবং তিনি জনগণের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে চাঁদাবাজদের কার্যক্রম প্রতিহত করতে সদা প্রস্তুত। দেবিদ্বারে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন তার অগ্রাধিকার।