ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, জনদুর্ভোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক যানজট

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে সোমবার সকাল থেকে বিরল তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সাইনবোর্ড থেকে লাঙ্গলবন্দ সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ যানবাহনের সারি নেমে আসায় যাত্রী ও চালকরা বিপুল ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। নির্বাচনের ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মদনপুর এলাকায় এশিয়ান হাইওয়েতে ট্রাকের অতিরিক্ত চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাবে মহাসড়কে ধীরগতি এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঁচপুর ব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় অফিসগামী যানবাহনের চাপ এবং ভারী যানবাহনের ধীরগতির কারণে কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণ সময় লাগছে। যাত্রীরা জানাচ্ছেন, অফিসের সময়সূচি ঠিক রাখতে অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন। ঢাকাগামী যাত্রী সোহেল রানা বলেন, “সকালে জরুরি কাজে বের হয়েছিলাম। কাঁচপুর পার হতে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছে। যানজটের কারণে অফিসে পৌঁছাতে সময় লেগেছে অনেক বেশি।” অন্য যাত্রী শাহিন আলম বলেন, “বাসের ভেতরে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে খুব ভোগান্তি হয়েছে। গাড়ি যেন একদমই নড়ছে না। এত যানজটে শরীরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।”

ভাঙা রাস্তা ও ট্রাফিক চাপও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। ট্রাকচালক আব্দুল কুদ্দুস জানান, মদনপুরের এশিয়ান হাইওয়ের কয়েকটি অংশ এমনভাবে ভাঙা যে দ্রুত গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। ধীরগতিতে চলতে গিয়ে পেছনে গাড়ির সারি দীর্ঘ হচ্ছে, যার ফলে মহাসড়কে যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ট্রাফিক ইনচার্জ বিষ্ণুপদ শর্মা বলেন, নির্বাচনের ছুটি শেষে শিল্পকারখানা এবং পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ায় ট্রাক চলাচল হঠাৎ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি মদনপুরের এশিয়ান হাইওয়ের কিছু ভাঙা সড়ক ট্রাফিকের গতি কমিয়ে দিয়েছে। “এ অবস্থায় মহাসড়কে যানজট অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা একাধিক টিম কাজ করছি এবং যানজট নিরসনে ট্রাফিক শৃঙ্খলা জোরদার করা হচ্ছে,” তিনি জানান।

জানা গেছে, যানজটের কারণে যাত্রীরা শুধু সময় নষ্ট করছেন না, বরং দৈনন্দিন জীবনে বিরূপ প্রভাবও পড়ছে। অফিসগামী কর্মচারী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ যাত্রী সকলেই দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরে আটকে থাকায় মানসিক চাপ ও শারীরিক ক্লান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কে অব্যবস্থাপনা এবং যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ একত্রে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসন ভাঙা অংশগুলোর সারমর্ম যাচাই করছে এবং যানবাহনের ধীরগতিকে স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া মহাসড়কের সংকীর্ণ অংশে গাড়ি চলাচল সীমিত রাখা হচ্ছে এবং ট্রাফিক নির্দেশনা অনুযায়ী চলাচল করতে বলা হচ্ছে। তবে বিশেষভাবে ট্রাক চালকরা জানিয়েছেন, ভাঙা অংশের কারণে ধীরগতিতে চলতে বাধ্য হওয়ায় পেছনের গাড়ি সারি আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই যানজট শুধু দৈনন্দিন যাত্রীর ভোগান্তি নয়, দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলছে। কারণ এই মহাসড়ক দিয়ে পণ্য পরিবহন এবং শিল্পজাত পণ্য সরবরাহ প্রধানত হয়ে থাকে। যানজটের কারণে সরবরাহ চেইনে বিলম্ব ঘটতে পারে, যা শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করে।

জানা গেছে, মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোর দ্রুত সংস্কার ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা করা না হলে, অফিসগামী এবং পণ্যবাহী যানবাহনের ভোগান্তি চলমান থাকবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এশিয়ান হাইওয়েতে আধুনিকায়ন এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জরুরি, যাতে নিয়মিত চাহিদা পূরণ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা যায়।

জনগণ আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের মূল সংযোগপথটি সচল রাখবে। যানজট নিরসনে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং দ্রুত সময়ে সড়ক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত