রোজা শেষে স্বস্তি দিতে মৌসুমি ফল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
রোজা শেষে স্বস্তি দিতে মৌসুমি ফল

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রমজানের ইফতার হলো একদিকে ভোজনের আনন্দ, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সুযোগ। এমন পরিস্থিতিতে খাবারের পুষ্টি ও হজমযোগ্যতা বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইফতারের সময় ভারী ভাজাপোড়া খাবার খাওয়ার চেয়ে মৌসুমি ফলকে প্রথম সারিতে রাখা সব থেকে ভালো। কারণ মৌসুমি ফল শুধু স্বাদেই সমৃদ্ধ নয়, এগুলো সহজপাচ্য, হজমে সহায়ক এবং শরীর দ্রুত গ্রহণ করতে পারে, ফলে সারাদিনের রোজার পর শরীরকে স্বস্তি ও সতেজতা দেয়।

বর্তমানে দেশের বাজারে গ্রীষ্মকালীন ফলের আগমন শুরু হয়েছে। এই সময়ের ফল ইফতারের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী, যা শরীরকে পুনঃজীবিত করতে সাহায্য করে। তরমুজ, কলা, পেঁপে, আনারস, ডাবের পানি ও মাল্টা—এই পাঁচ ধরনের মৌসুমি ফল একসাথে রাখলে পুষ্টি, স্বস্তি এবং সতেজতা তিনটিই মিলবে।

তরমুজ হলো ইফতারের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। এতে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি থাকে, যা সারাদিন পানিশূন্য থাকার পর শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করে। তরমুজে থাকা লাইকোপিন এবং ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা কোষকে রক্ষা এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এক বা দুই টুকরো তরমুজই শরীরকে সতেজ অনুভূতি দিতে সক্ষম।

কলা হলো সহজলভ্য শক্তিদায়ক ফল। এতে উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম থাকে, যা পেশির দুর্বলতা দূর করতে সহায়তা করে এবং শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এক একটি মাঝারি আকারের কলা ইফতারে তাৎক্ষণিক শক্তি যোগ করে। পেশাদার পুষ্টিবিদরা বলেন, কলা রোজার পর ক্ষুধা মেটানোর পাশাপাশি শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধারে কার্যকর।

পেঁপে হলো হজমে সহায়ক একটি ফল। এতে থাকা এনজাইম হজম প্রক্রিয়া সহজ করে এবং দীর্ঘ সময় না খাওয়ার পর পেটের জন্য আরামদায়ক। বিশেষত যারা পেটের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য পেঁপে খুবই উপযোগী। এটি হালকা, সহজপাচ্য এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সাহায্য করে।

আনারসও ইফতারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ফল। এতে ভিটামিন সি এবং ব্রোমেলিন এনজাইম থাকে, যা হজমে সহায়তা করে। তবে যারা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন, তারা আনারস পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। পুষ্টিবিদরা বলেন, আনারস শুধু হজমে সহায়ক নয়, এটি শরীরকে সতেজ রাখার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ।

ডাবের পানি হলো প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের উৎস। এটি শরীরের পানিশূন্যতা পূরণে কার্যকর এবং শরীরকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করে। মাল্টা বা কমলালেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং শরীরকে সতেজ রাখে। ডাবের পানি ও মাল্টা একসাথে রাখলে শরীরের প্রয়োজনীয় জল ও পুষ্টি সহজেই পাওয়া যায়।

ইফতারের সময় এই পাঁচ মৌসুমি ফলের ব্যবহার শরীরকে দ্রুত পুনঃশক্তি দেয়, হজম প্রক্রিয়া সহজ করে এবং সারাদিনের রোজার পর স্বস্তি এনে দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মৌসুমি ফলকে প্রাধান্য দিলে পুষ্টিগুণ বজায় থাকে এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকা যায়। এটি শুধু স্বাস্থ্যকর নয়, বরং শরীরকে সতেজ ও মনকে প্রাণবন্ত রাখে।

সারাদিন না খেয়ে থাকার পর শরীরের গ্লুকোজ লেভেল কমে যায়, ফলে হঠাৎ ভারী খাবার খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু মৌসুমি ফল সহজপাচ্য, যা শরীরকে ধীরে ধীরে শক্তি এবং পুষ্টি দেয়। পুষ্টিবিদরা বলেন, “ইফতারে মৌসুমি ফল খাওয়ার ফলে রোজার দীর্ঘ সময়ের উপসর্গ যেমন মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং ত্বকের শুষ্কতা কমে। এটি শরীরের জন্য সঠিক সমাধান।”

দেশের বাজারে বর্তমানে তরমুজ, কলা, পেঁপে, আনারস, ডাবের পানি ও কমলালেবু সহজলভ্য। তাই পরিবারের সবাই মিলে ইফতারের টেবিলে এই মৌসুমি ফল রাখলে তা স্বাস্থ্যকরও হবে এবং দীর্ঘ রোজার পর শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করবে। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, “ইফতারের বেলা ফলগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে পরিবেশন করলে শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষ সহজে তা গ্রহণ করতে পারে। এতে পুষ্টি বজায় থাকে এবং হজমও ভালো হয়।”

সংক্ষেপে, রোজার পর স্বস্তি, সতেজতা এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে মৌসুমি ফলকে ইফতারের মূল তালিকায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রাকৃতিক, সহজপাচ্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর ফল সারাদিন না খেয়ে থাকা শরীরকে পুনঃশক্তি যোগ করে এবং মনের তৃপ্তি দেয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত