মিয়ানমারের আরাকান আর্মি নাফ নদী থেকে ৫ জেলে আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২ বার
মিয়ানমারের আরাকান আর্মি জেলে আটক

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় বাংলাদেশি পাঁচ জেলেকে ট্রলারসহ আটক করেছে মিয়ানমারের আরাকান আর্মি। মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের পরিবারে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। জেলেদের আটক হওয়ার খবর স্থানীয়ভাবে এবং ট্রলার মালিকের মাধ্যমে জানা গেছে।

আটক জেলেরা হলেন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া এলাকার মৃত সৈয়দ আলমের ছেলে শাহ আলম (২০), মৃত নজু মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন, মৃত মকবুল আহমেদের ছেলে মো. আব্বাস (৪০), আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল সাহেদ (১৮) এবং মৃত মো. হোসেনের ছেলে মো. ইউনুস (৪০)। তারা নাফ নদী থেকে মাছ ধরার পর সেন্টমার্টিনের কাছে নিজের ট্রলারসহ নৌ-ঘাটে ফিরছিল।

ট্রলার মালিক এবং স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ জানিয়েছেন, মাছ ধরার পর সন্ধ্যা নাগাদ তারা শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় পৌঁছে ট্রলার নোঙর করে রাত কাটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ স্পিডবোটে করে আসে আরাকান আর্মির সদস্যরা এবং ট্রলারসহ জেলেদের আটক করে নিয়ে যায়। এতে স্থানীয়রা আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

জেলেদের পরিবার বলেছে, তাদের প্রিয়জনদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। কেউ জানে না, জেলেদের কোথায় রাখা হয়েছে এবং কী অবস্থায় তারা আছেন। জেলেদের স্বজনরা অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন আশা করছেন।

স্থানীয় কোস্ট গার্ডকে বিষয়টি জানানো হলে লে. কমান্ডার রিফাত বলেন, তার কাছে এ ধরনের তথ্য এখনও পৌঁছায়নি। তবে বিষয়টি খুঁজে দেখবেন এবং প্রয়োজনে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবেন। তিনি জানান, সীমান্ত ও জলসীমা রক্ষায় তাদের টিম নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাফ নদী ও নাইক্ষ্যংদিয়া অঞ্চল বঙ্গোপসাগরের নৌ-সীমা হিসেবে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখানে স্থানীয় জেলেদের উপর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের অভাব, পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশের মিলিশিয়া ক্রিয়াকলাপের ফলে এমন ধরনের ঘটনার সম্ভাবনা বেড়েছে। নদী ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন এবং জেলেরা জানিয়েছেন, প্রায়শই নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মিয়ানমারের সীমান্তে স্পিডবোটে অভিযান চালানো হয়, যেখানে কখনো কখনো স্থানীয় জেলেরা আটক হয়। এটি স্থানীয় জনগণের জীবিকা ও নিরাপত্তা দুর্বল করছে। ট্রলার মালিক মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, “আমাদের মাছ ধরার জন্য নৌ-যাত্রা করতে হয়, কিন্তু প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে থাকাটা খুব কষ্টের। এই ধরনের ঘটনা আমাদের জীবিকার ক্ষেত্রে বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।”

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক মিলিশিয়ার এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক এবং নিয়ন্ত্রণমূলক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তারা সীমান্তের দুইপক্ষের জেলেদের উপর প্রভাব দেখানোর চেষ্টা করছে। এ ধরনের ঘটনাগুলো কূটনৈতিক ও মানবিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপ হিসেবে জেলেদের পরিবার এবং স্থানীয় নেতারা দ্রুত কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে শুরু করেছেন। তাদের দাবি, আটক জেলেদের দ্রুত মুক্তি এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার ব্যবস্থা করা হোক।

এই ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এবং ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জেলেরা বলেন, “এ ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সম্প্রদায়ের জন্য হুমকি। আমাদের জীবিকা, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় অর্থনীতিও প্রভাবিত হচ্ছে।” তারা সরকারের সঙ্গে আরও কার্যকর পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি কামনা করছেন।

জেলেদের পরিবার আশা করছে, দ্রুত কূটনৈতিক চেষ্টার মাধ্যমে আটক জেলেদের নিরাপদে মুক্তি নিশ্চিত হবে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং কোস্ট গার্ড সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরেও আনা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত