ডেনমার্কের রাজা ফ্রেডেরিকের গ্রিনল্যান্ড সফর শুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার
গ্রিনল্যান্ড সফরে ডেনমার্কের রাজা

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ডেনমার্কের রাজা দশম ফ্রেডেরিক বুধবার থেকে তিন দিনের জন্য স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড সফর শুরু করেছেন। রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, এই সফরকে দ্বীপটির প্রতি সমর্থন ও সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশাল খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে গত বছর থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ডেনমার্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় এ সফরকে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে বিশ্লেষকরা দেখছেন।

নুক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ৫৭ বছর বয়সী ডেনিশ রাজা সফরের সময় গ্রিনল্যান্ডে সংহতি ও সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা দিচ্ছেন। তাঁর সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গত জানুয়ারির শেষ দিকে করা হয়। গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বসবাস করে।

সফরের সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিন বুধবার তিনি রাজধানী নুকে থাকবেন এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বীপটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করবেন। বৃহস্পতিবার তিনি নুক থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে মানিতসক ভ্রমণ করবেন। শুক্রবার তিনি আরও উত্তরে কাংগারলুসুয়া অঞ্চলে ডেনিশ সেনাদের আর্কটিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। এই সফর মূলত গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা, স্থায়ী অস্ত্র ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সংলাপের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, “যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে সরে এসেছেন, তবুও তিনি গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব বুঝছেন এবং দ্বীপের মালিকানা পেতে আগ্রহী ছিলেন।” ট্রাম্পের এ আগ্রহের পেছনে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং খনিজসম্পদের কৌশলগত মান রয়েছে। বরফ গলায় আর্কটিকের নতুন নৌপথ ও খনিজ রিসোর্সের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগের আলোচনায় ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। তবে এই দলের বিস্তারিত কার্যক্রম বা আলোচনার বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজার এই সফর মূলত দ্বীপটির স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান জানিয়ে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়িয়ে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিশ্চিত করার একটি পদক্ষেপ।

বিশ্বস্ত পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই সফরের মাধ্যমে ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডে নিজের ঐতিহাসিক প্রভাব প্রদর্শন করছে, একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব ও সম্ভাব্য বৈদেশিক হুমকি মোকাবিলায় শক্ত অবস্থান প্রদর্শন করছে। তারা উল্লেখ করেন, ডেনমার্কের এই পদক্ষেপ অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় নাগরিকরা রাজা ফ্রেডেরিকের এই সফরকে দ্বীপের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেনমার্কের রাজা ও সরকারের সরাসরি উপস্থিতি দ্বীপের সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের সফর কেবল রাজনৈতিকই নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, আর্কটিক অঞ্চলে শক্তিশালী দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কারণে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত