যশোরে পেটভর্তি ইয়াবা সহ যুবক আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১১ বার
যশোরে পেটভর্তি ইয়াবা সহ যুবক আটক

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যশোরে পেটের ভেতর লুকিয়ে ইয়াবা বহনের অভিযোগে মাসুদ রানা (২০) নামের এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-৬। মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের মণিহার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত যুবক বর্তমানে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যেখানে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে তার পেট থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট বের করা হচ্ছে।

মাসুদ রানা শার্শা উপজেলার গোরপাড়া কলোনিপাড়ার হোসেন আলীর ছেলে। র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পেরেছিলেন, একজন যুবক ইয়াবা বহন করে যশোর হয়ে বেনাপোলের দিকে যাচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা মণিহার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেয় এবং সেই সময় মাসুদ রানাকে আটক করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক স্বীকার করেছেন যে, তার পেটের ভেতর আনুমানিক দুই হাজার দুইশো পিস ইয়াবা ট্যাবলেট লুকিয়ে রাখা ছিল। তিনি আরও জানিয়েছেন, এসব ইয়াবা তিনি কক্সবাজার থেকে সংগ্রহ করে বেনাপোলের মাধ্যমে দেশে বহন করতে যাচ্ছিলেন। র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের কৌশল প্রায়শই পেশাদার নেশাজাত দ্রব্য ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করে, যাতে সাধারণ তল্লাশিতে ধরা না পড়ে। কিন্তু র‌্যাবের তৎপরতা এবং গোপন সংবাদের কারণে যুবকটি আটক হতে বাধ্য হয়।

র‌্যাব অধিনায়ক জানান, ধীরে ধীরে তার পেট থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট বের করার প্রক্রিয়া চলছে। এই ধাপে বিশেষ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে, যাতে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি না থাকে। চিকিৎসার পাশাপাশি যুবকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় অপরাধীকে যথাযথ আইনি কাঠামোর মধ্যে রেখে মামলা দায়ের করা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে ইয়াবা সরবরাহ চক্রের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।

এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণও উদ্বিগ্ন। তারা জানিয়েছেন, মাদক পাচার এবং নেশাজাত দ্রব্যের অবৈধ সরবরাহ যুবকদের জীবনকে বিপদগ্রস্ত করছে। বিশেষত পেটের ভেতর দিয়ে ইয়াবা বহনের মতো চরম কৌশল সমাজে নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক হতে হবে।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পেটের ভেতর বা অন্যান্য চরম কৌশল ব্যবহার করেও মাদক বহনকারীদের রুখতে র‌্যাব বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিম রাখছে। এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে শুধু ইয়াবা আটক নয়, বৃহৎ মাদক চক্রের গতি নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযানগুলো কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নয়, বরং যুব সমাজকে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্যও জরুরি। পেটভর্তি ইয়াবার মতো ঘটনা যুবকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে। তাই সমাজের সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কার্যকরভাবে কাজ করে এই ধরনের অপরাধ দমন করতে হবে।

মাসুদ রানার এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক। স্থানীয় জনতা এবং শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, মাদকবিরোধী প্রচারণা এবং অভিযান আরও শক্তিশালী করতে হবে, যাতে যুবসমাজ মাদক থেকে দূরে থাকে এবং অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পায়। পাশাপাশি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালু করা উচিত, যাতে ধরা পড়া মাদক ব্যবসায়ীরা পুনরায় সমাজে ফিরলে সঠিকভাবে পথ পরিবর্তন করতে পারে।

র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কর্মকর্তারা আরও বলেন, ‘‘মাদক পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল ব্যবহার করছে। তাদের নেভিগেশন এবং পরিবহন পদ্ধতি শনাক্ত করতে আমাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিম প্রয়োজন। এই ধরনের অভিযানই আমাদের সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে পারে।’’

মাসুদ রানা আটক হওয়া এবং তার পেট থেকে ইয়াবা বের করার প্রক্রিয়া বর্তমানে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যশোরসহ আশেপাশের এলাকা মাদকবিরোধী আইন প্রয়োগের প্রতি আরও নজর রাখছে। এই ধরণের ঘটনা সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারিক নজরদারি এবং যুবকদের নেশা থেকে দূরে রাখার প্রয়াসকে ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সর্বশেষ র‌্যাব সূত্রে জানানো হয়েছে, আটক যুবকের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হবে এবং অপরাধ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য তদন্ত অব্যাহত থাকবে। এটি একটি বার্তা হিসেবে সমাজে পৌঁছানো হবে, যে কোনো ধরনের মাদক পাচার রুখতে র‌্যাব সর্বদা সজাগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত