প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফিরার পর থেকে মার্কিন জনগণের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রতি সমর্থন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বিশেষ করে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্প অভিবাসন বিষয়ে ভালো কাজ করছেন। এর আগে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত রয়টার্স/ইপসোস জরিপে এই হার ছিল ৩৯ শতাংশ। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কয়েক মাসে এই সমর্থন ৫০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিবাসন নীতিতে সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতা ও কঠোর পদক্ষেপগুলোই সমর্থন কমার প্রধান কারণ।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প অভিবাসন প্রতিরোধে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফিরে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি অভিবাসন বিরোধী বিশেষ কার্যক্রমে নির্দেশ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে মুখোশধারী অভিবাসন কর্মকর্তা ও এজেন্টদের তৎপরতা দেখা গেছে। এই অভিযান চলাকালীন অভিবাসন বিক্ষোভকারী ও মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে দেখা গেছে, পুরুষ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন হ্রাস পেয়েছে ৫০ শতাংশের কাছাকাছি থেকে বর্তমানে ৪১ শতাংশে। নারীদের সমর্থন কমে গেছে প্রায় ৪০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হ্রাস একদিকে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের ধরণ এবং কঠোরতার কারণে, অন্যদিকে মানুষের মধ্যে মানবিক ও সামাজিক দিকগুলো নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়াকে প্রতিফলিত করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সমর্থন হ্রাস সামনের নির্বাচনের প্রভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পুরুষ ভোটাররা ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে সম্প্রতি সমর্থন কমে আসায় আগামী নির্বাচনে অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে ভোটারের মনোভাব পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই পরিস্থিতি মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। অভিবাসন বিষয়ে কঠোর নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে জনগণের সমর্থনের এই ঘাটতি ট্রাম্পের প্রশাসন ও তার নীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি তার রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মাত্রা বাড়াবে এবং নতুন কৌশল প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা উদ্ভুত করবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের সমর্থন হ্রাস শুধুমাত্র ভোটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিরোধ সৃষ্টি করছে। এটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করতে পারে।
রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, মার্কিন জনমত ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কঠোর দিকগুলো জনগণের মধ্যে বিভাজন ও সমালোচনা বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি প্রশাসনের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা প্রয়োজন এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য নীতি সংশোধনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রাখে।