খুলনায় যুবককে গুলি, আশঙ্কাজনক অবস্থা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ বার
খুলনায় যুবককে গুলি করে হত্যা চেষ্টা

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণাঞ্চলের জনবহুল নগরী খুলনাতে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন সোহেল ওরফে চেগা সোহেল (২৮) নামে এক যুবক। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টার দিকে নগরীর মওলার বাড়ি খালপাড় বোর্ড ঘরের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি আচমকা এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গুলিটি সোহেলের কোমরের বাম পাশে বিদ্ধ হয় এবং তাতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। আশপাশের লোকজন প্রথমে গুলির শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণ পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা সরে যায়। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বশত্রুতা বা অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, “সোহেলকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। একটি গুলি তার শরীরে লাগে। আমরা ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।”

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আহত যুবকের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহেল এলাকায় পরিচিত মুখ এবং অতীতে কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরেও এসেছিলেন। তবে এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা আগে কখনো ঘটেনি বলে তারা জানিয়েছেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, রাতের নিস্তব্ধতায় হঠাৎ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রথমে কেউ বুঝতে পারেনি কী হয়েছে। পরে বাইরে বের হয়ে দেখা যায় সোহেল মাটিতে পড়ে আছে এবং আশপাশে রক্ত ছড়িয়ে আছে। তখনই সবাই মিলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আলামত সংগ্রহ করে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্তকারীরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, যাতে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়। পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের হামলার পেছনে সাধারণত পরিকল্পিত উদ্দেশ্য থাকে এবং এতে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার সম্ভাবনা থাকে। তাই ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কী কারণে হামলা চালানো হয়েছে, তা জানতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, অপরাধীরা যেই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহত সোহেলের অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। তার শরীরে গুলির আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ঢাকায় নেওয়ার পর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তার চিকিৎসা শুরু করেছেন।

এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ এটিকে এলাকার অপরাধচক্রের দ্বন্দ্বের ফল বলে মন্তব্য করছেন, আবার অনেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে পুলিশ বলছে, গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ জোরদার করা এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম সক্রিয় রাখলে এমন ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সামাজিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, তরুণদের অপরাধজগত থেকে দূরে রাখতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা বলেন, মাদক ও অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক ভাঙতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, নইলে এসব দ্বন্দ্ব প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।

এই ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং দ্রুত অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এসেছে নগর এলাকায় রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাতের বেলা পুলিশ টহল আরও বাড়ানো হলে অপরাধীরা এভাবে দুঃসাহসিক হামলা চালাতে পারত না। তারা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত