উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী পেয়ে জামালপুরে উৎসব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
জামালপুরে উপদেষ্টা প্রতিমন্ত্রী আনন্দ

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে জেলার দুই রাজনীতিকের অন্তর্ভুক্তির খবরে উত্তরাঞ্চলের জেলা জামালপুর জুড়ে দেখা দিয়েছে আনন্দ, প্রত্যাশা ও আবেগের এক অনন্য মিশ্র দৃশ্য। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা নজরুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসরকারি বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত অনেকেই এটিকে জেলার জন্য মর্যাদা ও সম্ভাবনার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।

খবরটি প্রকাশের পরপরই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার ও পাড়া-মহল্লায় দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। কোথাও মিষ্টি বিতরণ, কোথাও আবার দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জেলার উন্নয়নে যে প্রত্যাশা ছিল, এই নিয়োগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে জেলার প্রতিনিধিত্ব বাড়লে উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়বে।

মঙ্গলবার বিকেলে শহরের সকাল বাজার এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মিষ্টি বিতরণ কর্মসূচি ছিল চোখে পড়ার মতো। সংগঠনের স্থানীয় এক নেতার নেতৃত্বে কর্মীরা অটোবাইক যাত্রী, পথচারী এবং দোকানদারদের হাতে মিষ্টি তুলে দেন। আনন্দ ভাগাভাগির এই দৃশ্য সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল ও উৎসাহ সৃষ্টি করে। অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুভেচ্ছা জানান এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই নেতার সফলতা কামনা করেন।

একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। শহরের কাচারীপাড়া বটতলা এলাকায় জেলা যুবদলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক দোয়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতারা বলেন, এই নিয়োগ শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং জেলার মানুষের সম্মানের বিষয়। তারা মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং নবনিযুক্ত উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই মনে করেন, জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা জেলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ মানুষও এই নিয়োগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের ভাষ্য, জাতীয় রাজনীতিতে জেলার প্রতিনিধিত্ব বাড়লে স্থানীয় সমস্যাগুলো দ্রুত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পৌঁছানো সহজ হবে। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের আশা করছেন অনেকে। একজন প্রবীণ শিক্ষক বলেন, “যখন আমাদের জেলার মানুষ বড় দায়িত্ব পান, তখন আমরা মনে করি আমাদের কথাও কেউ শুনবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো জেলার নেতারা যখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন, তখন স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই এক ধরনের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। কারণ তারা মনে করেন, নিজেদের এলাকার বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত প্রতিনিধিরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকলে উন্নয়নের সম্ভাবনা বাড়ে। তবে তারা এটিও মনে করিয়ে দেন যে প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে কার্যকর পদক্ষেপ ও স্বচ্ছ পরিকল্পনা জরুরি।

এদিকে দলীয় নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর প্রতি। তাদের বক্তব্য, জেলার দুই অভিজ্ঞ নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে তিনি জেলার মানুষকে সম্মানিত করেছেন। তারা আশা করছেন, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই প্রতিনিধিত্ব জেলার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা পোস্ট করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

জেলার দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ এলাকায়ও একই চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকায় আনন্দ আরও বেশি ছিল। সন্ধ্যার পর বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট সমাবেশে নেতাকর্মীরা মিষ্টি বিতরণ করেন এবং দোয়া করেন। এলাকাবাসী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা এমন একটি খবরের অপেক্ষায় ছিলেন, যা তাদের জেলার নাম জাতীয় পর্যায়ে নতুনভাবে উচ্চারিত করবে।

রাতের দিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের তালিকায় নজরুল ইসলাম খানের নাম ঘোষণার খবর পৌঁছালে আনন্দ যেন পূর্ণতা পায়। তাঁর নিজ উপজেলা ইসলামপুরেও একই রকম উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বুধবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “দুই নেতার একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়া আমাদের জেলার জন্য বিরল গর্বের বিষয়।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই উচ্ছ্বাসের পেছনে শুধু রাজনৈতিক আবেগ নয়, রয়েছে উন্নয়নের প্রত্যাশাও। জামালপুর দীর্ঘদিন ধরেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিল্পায়নের দিক থেকে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা জেলার তালিকায় রয়েছে। তাই জেলার মানুষ মনে করছেন, জাতীয় পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব থাকলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।

সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে জেলার দুই নেতার অন্তর্ভুক্তি জামালপুরবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আনন্দ-উল্লাসের মধ্যেও তাদের প্রত্যাশা বাস্তব উন্নয়নে রূপ নেবে—এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা। এখন দেখার বিষয়, এই প্রত্যাশা কত দ্রুত বাস্তবে প্রতিফলিত হয় এবং নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি নিজ জেলার উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত