প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালু

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নতুন সরকারের কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত ও নীতিগত বার্তা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ। বুধবার নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পেজটির নাম রাখা হয়েছে “PMO Bangladesh- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়” এবং এতে সরকারের নীতিনির্ধারণী তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা, কর্মসূচি ও কার্যক্রমের আপডেট নিয়মিত প্রকাশ করা হবে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটি কার্যকর মাধ্যম হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং তথ্যপ্রবাহের গতি বাড়াতে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় নাগরিকদের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের পেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে গঠিত সরকার ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। সরকারি সূত্র বলছে, ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সফরের আপডেট, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও জরুরি বার্তা এই পেজের মাধ্যমে সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানো হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মতামত ও প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে, যাতে নীতি নির্ধারণে জনমতের প্রতিফলন ঘটে।

পেজটির ডিসপ্লে ছবিতে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হয়েছে, যা এটিকে একটি অফিসিয়াল ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় দিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার যুগে যাচাইকৃত সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম জনসাধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করতে পারে। এর ফলে গুজব প্রতিরোধ সহজ হয় এবং জনগণ সরাসরি সরকারি অবস্থান জানতে পারেন।

সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটও ছিল দ্রুত পরিবর্তনশীল। মঙ্গলবার সকাল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন রাতে সরকারি গেজেট জারি করে অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক কাঠামো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপরই নতুন প্রশাসনিক কাঠামোকে দৃশ্যমান ও সক্রিয় দেখাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এতে সরকার তার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও প্রস্তুতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারে।

এর আগে সরকারি তথ্য প্রচারের জন্য ব্যবহৃত “Chief Advisor GOB” নামের একটি ফেসবুক পেজ ছিল, যা অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সময় সক্রিয় ছিল। বুধবার সকাল ১০টার দিকে ওই পেজে প্রকাশিত এক ঘোষণায় জানানো হয়, এখন থেকে পেজটির সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এতে বোঝা যায়, নতুন প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তথ্য প্রচারের মাধ্যমও আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি উপস্থিতি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার অপরিহার্য অংশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ইতোমধ্যেই নাগরিক যোগাযোগের জন্য অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে পরিচালিত হলে এ ধরনের পেজ সরকার ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমায়, নাগরিক আস্থা বাড়ায় এবং তথ্যপ্রবাহকে দ্রুততর করে।

ডিজিটাল যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সরকারি পেজ সফল করতে হলে নিয়মিত আপডেট, নির্ভরযোগ্য তথ্য, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি। অন্যথায় পেজটি কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যম হয়ে থেকে যায় এবং জনগণের সঙ্গে প্রকৃত যোগাযোগ গড়ে ওঠে না। তাই এই পেজ পরিচালনার জন্য দক্ষ টিম, তথ্য যাচাই ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম হিসেবে Facebook বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী মাধ্যম। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে সরকারি দপ্তর, মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে থাকেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, একটি দেশের সরকার যদি ডিজিটাল মাধ্যমে সক্রিয় থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার উপস্থিতি দৃশ্যমান হয় এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ সহজ হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নতুন সরকারের এই উদ্যোগ শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং কৌশলগতও। কারণ আধুনিক রাজনীতিতে জনমত গঠন, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সংকট মোকাবিলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সরকার শুরুতেই এ প্ল্যাটফর্ম চালু করে জনসংযোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে—এমন ধারণা করা হচ্ছে।

সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, অফিসিয়াল পেজ চালুর ফলে সরকারের সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচি সম্পর্কে সরাসরি তথ্য পাওয়া সহজ হবে। এতে ভুল তথ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং নাগরিকরা দ্রুত সরকারি অবস্থান জানতে পারবেন।

তথ্য বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি নিয়মিত আপডেট, সঠিক তথ্য ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা যায়, তবে এই পেজটি ভবিষ্যতে সরকারের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না করলে এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম বিভ্রান্তির ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসেই অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ চালুর উদ্যোগ প্রশাসনিক সক্রিয়তার একটি প্রতীকী বার্তা বহন করছে। এটি শুধু তথ্য প্রচারের মাধ্যম নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে যোগাযোগের একটি নতুন সেতুবন্ধন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্ম কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটিই নির্ধারণ করবে উদ্যোগটির প্রকৃত সফলতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত