মন্ত্রী না হওয়ায় রেজা কিবরিয়া ইস্যুতে হতাশা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
রেজা কিবরিয়া

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হবিগঞ্জ-১ আসনের বিপুল ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়া নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়ায় তার নির্বাচনী এলাকা জুড়ে দেখা দিয়েছে স্পষ্ট হতাশা ও আক্ষেপের আবহ। নির্বাচনের আগে ও পরে স্থানীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ না হওয়ায় অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় তার অর্থনীতিবিদ পরিচয়, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং নীতিনির্ধারণী দক্ষতার কথা তুলে ধরে তাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার জোর দাবি উঠেছিল, যা বাস্তবায়িত না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলা ও বাহুবল উপজেলা জুড়ে ভোটের আগে থেকেই এক ধরনের প্রত্যাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করেছিলেন, দীর্ঘদিন পর একজন আন্তর্জাতিক মানের অর্থনীতিবিদ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন, ফলে সরকার গঠিত হলে তাকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এই ধারণা শুধু সাধারণ ভোটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীর বক্তব্যেও এমন প্রত্যাশার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। ফলে নির্বাচনে তার বড় ব্যবধানে জয় অনেকের কাছে ভবিষ্যৎ উন্নয়নের এক নতুন সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে দেখা দিয়েছিল।

স্থানীয় রাজনীতিবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। ভোটাররা মনে করেছিলেন, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন এবং এর সুফল সরাসরি জেলার উন্নয়নে প্রতিফলিত হবে। কিন্তু নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর যখন দেখা গেল জেলার কোনো প্রতিনিধিই সেখানে স্থান পাননি, তখন অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং সমর্থকদের একটি অংশ খোলামেলাভাবে হতাশা ব্যক্ত করেন।

গজনাইপুর ইউনিয়নের এক রাজনৈতিক নেতা বলেন, এলাকার মানুষ সম্মিলিতভাবে ড. কিবরিয়াকে নির্বাচিত করেছিলেন এই বিশ্বাসে যে তিনি দেশের অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু মন্ত্রিসভায় তার নাম না থাকায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তার মতে, যখন কোনো যোগ্য ব্যক্তির দক্ষতা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কাজে লাগানো হয় না, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো অঞ্চলের সম্ভাবনাকেও সীমিত করে দেয়। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন উপজেলা পর্যায়ের আরেক নেতা, যিনি বলেন যে দল ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হলে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা কিছুটা হলেও পূরণ হতে পারে।

স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে ড. কিবরিয়ার রাজনৈতিক যাত্রা ছিল বেশ আলোচিত। নির্বাচনের অল্প সময় আগে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এ যোগ দিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দেন। তার প্রার্থী হওয়াকে অনেকেই “চমক” হিসেবে দেখেছিলেন এবং মনে করেছিলেন, দল তাকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখতে চায়। ফলে নির্বাচনে তার জয় শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করেছিল বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

তবে মন্ত্রিসভা গঠন প্রক্রিয়ায় নানা রাজনৈতিক সমীকরণ, আঞ্চলিক ভারসাম্য, দলীয় কৌশল এবং প্রশাসনিক পরিকল্পনা কাজ করে—এমন মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া মানেই কাউকে অযোগ্য বিবেচনা করা নয়; বরং এটি অনেক সময় বৃহত্তর কৌশলগত সিদ্ধান্তের অংশ হতে পারে। তবু স্থানীয় পর্যায়ে আবেগ ও প্রত্যাশার বিষয়টি গুরুত্ব পায় বেশি, কারণ ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সময় ব্যক্তির যোগ্যতা ও সম্ভাবনার ওপর আস্থা রেখেই ভোট দেন।

এলাকার প্রবীণ নাগরিকদের কেউ কেউ বলছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেই একজন নেতা জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেন এবং উন্নয়নের বাস্তব ফল দেখাতে পারেন। তাদের মতে, মন্ত্রী না হলেও একজন সক্রিয় সংসদ সদস্য চাইলে এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারেন। তারা আশা করছেন, ড. কিবরিয়া তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় থাকবেন এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, নতুন সরকারের নেতৃত্বে থাকা তারেক রহমান ভবিষ্যতে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস বা মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন মুখ যুক্ত করতে পারেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন নজির রয়েছে যে, প্রথম দফার মন্ত্রিসভা ঘোষণার পর পরবর্তী সময়ে পরিবর্তন বা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ এখনও আশাবাদী যে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

এদিকে হবিগঞ্জ জেলা-র রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা বলছেন, জাতীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব পেলে জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়—এমন ধারণা মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে। তাই মন্ত্রিসভায় জেলার কেউ স্থান না পাওয়ায় অনেকে হতাশ হলেও তারা আশা করছেন, সংসদ সদস্যরা সম্মিলিতভাবে কাজ করলে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে।

সাধারণ ভোটারদের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের প্রত্যাশা মূলত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত অগ্রগতিকে কেন্দ্র করে। তারা মনে করেন, জাতীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী পদে কেউ থাকলে এসব কাজ দ্রুত এগোয়। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে বলেও অনেকে স্বীকার করছেন। তাদের মতে, নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেন, তাহলে মন্ত্রী না হলেও উন্নয়ন সম্ভব।

সমগ্র পরিস্থিতি বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে, ড. রেজা কিবরিয়াকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা ছিল অত্যন্ত উচ্চ। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় সাময়িক হতাশা তৈরি হলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং তার কাজের মাধ্যমে জনগণ নতুনভাবে মূল্যায়ন করবেন। এখন নজর থাকবে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে কীভাবে নিজ এলাকার উন্নয়ন ও জাতীয় নীতিনির্ধারণে অবদান রাখেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত