প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধবার। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান, যেখানে দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার বিষয়গুলো প্রধান আলোচ্যসূচি হিসেবে উঠে আসে। প্রথমবারের মতো নতুন মন্ত্রিসভার উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী সকল মন্ত্রণালয়কে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদের পক্ষ থেকে জানা যায়, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে সরকারের কর্মসূচি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষভাবে রমজান মাসে নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে, বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটাতে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি গণমাধ্যম কমিশনের প্রস্তাবগুলো কার্যকর করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তৎপর থাকার গুরুত্ব দিয়েছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, প্রধানমন্ত্রী রোজায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ঈদে মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ বাড়ি পৌঁছাতে পারে তার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর বলেন, দুর্নীতি মুক্ত ও দৃশ্যমান উন্নয়ন কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে সকল মন্ত্রণালয়কে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৈঠকের সূচনা হয় সচিবালয়ের এক নম্বর ভবনে বেলা ৩টায়। প্রধানমন্ত্রী নিজ দফতরে পৌঁছান বেলা ১২:৩৫ মিনিটে। বৈঠকের পর তিনি সচিবদের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করার কথাও রয়েছে। এই বৈঠকে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রাধিকার কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক কেবল প্রশাসনিক নয়, এটি জনগণের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার ও দ্রুত ফলপ্রসূ কর্মপরিকল্পনা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রতিটি মন্ত্রণালয় যেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে কাজ করে। বিশেষভাবে রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পরিবহন ও বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বিঘ্ন না ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
নাগরিকরা আশা করছেন, এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন সমস্যা যেমন মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুৎ সমস্যা এবং শ্রম বাজারের সম্প্রসারণে দৃশ্যমান ফল পাওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং গণমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়নের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে এই নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক প্রশাসন ও সরকারের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক দিকনির্দেশনার ভূমিকাও পালন করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের উন্নয়নগত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে। এছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হলে সরকারের প্রতি আস্থা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় তাদের পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখবে, যাতে দুর্নীতি বা অনিয়মের সুযোগ কমে। মন্ত্রিসভা সদস্যরা বলেন, এই নির্দেশনার আলোকে সরকারের প্রতিটি বিভাগ নিজ দায়িত্বে কাজ করবে এবং জনগণের জন্য সেবা প্রদানে সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখাবে।
নতুন মন্ত্রিসভার বৈঠক দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। সরকারি কর্মকর্তারা আশা করছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান প্রকল্প, রমজান ও ঈদে নাগরিক সুবিধা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, শ্রম বাজার সম্প্রসারণ এবং গণমাধ্যম বিষয়ক উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। দেশের নাগরিকরা এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও স্বচ্ছ, সুষম ও উন্নত সরকারের প্রত্যাশা করছেন।