ফুটবলে বড় অঘটন, ইন্টারকে হারিয়ে এগিয়ে বোডো/গ্লিম্ট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার
ফুটবলে বড় অঘটন, ইন্টারকে হারিয়ে এগিয়ে বোডো/গ্লিম্ট

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-এ আবারও দেখা গেল ফুটবলের চিরচেনা সৌন্দর্য—যেখানে পরাশক্তির সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় অপেক্ষাকৃত ছোট ক্লাব। নরওয়ের ক্লাব বোডো/গ্লিম্ট সেই গল্পটাই নতুন করে লিখল ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ইন্টার মিলান-কে ৩-১ গোলে হারিয়ে। শেষ ষোলোর প্লে-অফের প্রথম লেগে এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয়ের গল্প নয়, বরং এটি ইউরোপীয় ফুটবলের শক্তির ভারসাম্যে নতুন এক বার্তা।

নরওয়ের ছোট্ট শহর বোডোর ক্লাবটি যে শুধু অংশগ্রহণ করতেই আসেনি, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসেছে, সেটি তারা আগেও দেখিয়েছে। তবে ইন্টার মিলানের মতো তিনবারের ইউরোপসেরা দলকে হারানো নিঃসন্দেহে তাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হয়ে থাকবে। ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলতে থাকে বোডো/গ্লিম্ট। নিজেদের মাঠে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে উজ্জীবিত হয়ে তারা দ্রুত আক্রমণে যায় এবং ম্যাচের শুরুতেই ফিটের করা গোলে এগিয়ে যায়।

এই গোলের পর স্বাভাবিকভাবেই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ইন্টার। ইউরোপীয় মঞ্চে বহু নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের অভিজ্ঞতা থাকা দলটি সমতায় ফিরতেও বেশি সময় নেয়নি। চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এস্পোসিতো একটি চমৎকার আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে নিয়ে নিচ্ছে ইতালিয়ান জায়ান্টরা।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ঘটে নাটকীয় পরিবর্তন। বোডো/গ্লিম্ট যেন নতুন উদ্যমে মাঠে নামে। তারা বুঝিয়ে দেয়, এই ম্যাচে জয় পাওয়ার জন্য তারা মরিয়া। ৬১তম মিনিটে পেটার হাউজ একটি নিখুঁত আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে আবার এগিয়ে দেন। এই গোলের ধাক্কা সামলানোর আগেই আরও বড় আঘাত হানে স্বাগতিকরা। মাত্র তিন মিনিট পর, ৬৪তম মিনিটে ক্যাসপার হগ গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল ইন্টার মিলানকে পুরোপুরি হতবাক করে দেয়।

এই গোলের পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইন্টার। তারা আক্রমণের গতি বাড়ায়, একের পর এক সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করে। কিন্তু বোডো/গ্লিম্টের রক্ষণভাগ অসাধারণ দৃঢ়তা দেখায়। গোলরক্ষকসহ পুরো ডিফেন্স লাইন নিজেদের সেরাটা দিয়ে ইন্টারকে আর গোল করতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ের ক্লাবটি।

এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোতে ওঠার দৌড়ে এখন অনেকটাই এগিয়ে গেছে বোডো/গ্লিম্ট। দ্বিতীয় লেগে ইন্টারকে শুধু জিতলেই হবে না, বরং কমপক্ষে দুই গোলের ব্যবধানে জিতে সমতায় ফিরতে হবে এবং নিশ্চিতভাবে পরের রাউন্ডে যেতে হলে তিন গোলের ব্যবধানে জয় প্রয়োজন। যা তাদের জন্য সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই মৌসুমে বোডো/গ্লিম্ট ইতোমধ্যে ইউরোপের আরও বড় ক্লাবের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। গ্রুপ পর্বে তারা ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার সিটি এবং স্পেনের অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ-এর মতো শক্তিশালী দলকেও হারিয়েছে। ফলে তাদের এই জয় কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ধারাবাহিক সাফল্যেরই অংশ।

এদিকে একই রাতে আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হয় বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুগ এবং স্পেনের অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। এই ম্যাচটি পরিণত হয় গোলের উৎসবে। প্রথমার্ধে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ দুর্দান্ত ফুটবল খেলে দুই গোলে এগিয়ে যায়। লুকম্যান এবং আলভারেজের করা দুটি গোল স্প্যানিশ ক্লাবটিকে এগিয়ে দেয়।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামে ক্লাব ব্রুগ। নিজেদের মাঠে দর্শকদের সমর্থনে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করে। ৫১তম মিনিটে ওনিয়েডিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে ব্যবধান কমান। এরপর ৬০তম মিনিটে ট্রেসোল্ডি গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। ম্যাচটি তখন পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে যায়।

পরবর্তীতে একটি আত্মঘাতী গোলের সুবাদে আবারও এগিয়ে যায় অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি হয়তো স্প্যানিশ ক্লাবের দিকেই যাচ্ছে। কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় ক্লাব ব্রুগ। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে জোলিস গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলের নাটকীয় ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

এই ফলাফলের কারণে দ্বিতীয় লেগ এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরের ম্যাচে যে দল জয় পাবে, তারাই নিশ্চিত করবে শেষ ষোলোর টিকিট।

এদিকে অন্য ম্যাচগুলোতেও ছিল দাপুটে পারফরম্যান্স। জার্মানির বায়ার লেভারকুসেন গ্রিসের অলিম্পিয়াকোসকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। একই রাতে ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল ইউনাইটেড আজারবাইজানের কারাবাগকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে বড় জয় তুলে নেয়। এই ফলাফল তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এই রাউন্ড প্রমাণ করেছে, ইউরোপীয় ফুটবলে কোনো ম্যাচই আগেভাগে নির্ধারিত নয়। ছোট দলগুলো এখন আর শুধু অংশগ্রহণ করতে আসে না, তারা লড়াই করতে আসে, জিততেও আসে। বোডো/গ্লিম্টের মতো ক্লাবগুলো সেই পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠছে।

ফুটবলপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন দ্বিতীয় লেগের ম্যাচগুলোর জন্য। ইন্টার মিলান কি ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের ঐতিহ্যের প্রমাণ দিতে পারবে, নাকি বোডো/গ্লিম্ট লিখবে নতুন ইতিহাস—এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত