রমজানে সুস্থ থাকতে প্রোটিন খাবারের গুরুত্ব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার
রমজানে সুস্থ থাকতে প্রোটিন খাবারের গুরুত্ব

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রমজান মুসলমানদের জন্য আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির এক অনন্য সময়। তবে এই মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ না করলে রোজার সময় দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এমনকি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। এ কারণে সেহরি ও ইফতারে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুষ্টিবিদদের মতে, প্রোটিন মানবদেহের অন্যতম প্রধান উপাদান, যা পেশি গঠন, কোষ মেরামত, হরমোন তৈরি এবং শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরকে পুনরায় শক্তিশালী করতে প্রোটিন কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে রমজানে এটি শরীরকে দীর্ঘ সময় সতেজ রাখতে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণেও একই বিষয় উঠে এসেছে। World Health Organization জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় উপবাসের সময় শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সুষম খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য এবং এতে প্রোটিন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত। কারণ প্রোটিন শরীরের শক্তি ধরে রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুষ্টিবিদরা বলছেন, রোজার সময় সেহরি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ সেহরিতে গ্রহণ করা খাবারই সারাদিন শরীরকে শক্তি জোগায়। এ সময় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে তা ধীরে ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় শক্তি সরবরাহ করে। ফলে সহজে ক্ষুধা লাগে না এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে না। উদাহরণ হিসেবে ডিমকে একটি আদর্শ খাবার হিসেবে ধরা হয়। একটি ডিমে উচ্চমানের প্রোটিন থাকে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

মুরগির মাংসও প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে কম তেল ও মসলায় রান্না করা মুরগির মাংস শরীরের জন্য সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর। একইভাবে গরুর মাংসেও প্রচুর প্রোটিন ও আয়রন থাকে, যা শরীরের রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়তা করে। তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ তা হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

মাছকে প্রোটিনের পাশাপাশি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছ শরীরে প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড সরবরাহ করে, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। দেশি মাছও সমানভাবে পুষ্টিকর এবং সহজলভ্য হওয়ায় রমজানে এটি একটি ভালো খাদ্য বিকল্প।

দুধ, দই এবং পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবার শরীরে প্রোটিনের পাশাপাশি ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে। ইফতারের সময় এক বাটি টকদই শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। অনেকেই ইফতারে ভারী ও ভাজাপোড়া খাবার গ্রহণ করেন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এর পরিবর্তে প্রোটিনসমৃদ্ধ হালকা খাবার গ্রহণ শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

উদ্ভিজ্জ উৎস থেকেও প্রচুর প্রোটিন পাওয়া যায়। ডাল ও ছোলা বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য খাবার। এগুলো শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং দীর্ঘ সময় শক্তি সরবরাহ করতে সক্ষম। বিশেষ করে ইফতারে ছোলা একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হলেও এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি।

বাদাম ও বিভিন্ন বীজও শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। অল্প পরিমাণ বাদাম শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি সরবরাহ করে, যা শরীরকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। অনেক বিশেষজ্ঞই সেহরি বা ইফতারে অল্প পরিমাণ বাদাম অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন।

রমজানে সুস্থ থাকতে শুধু প্রোটিন গ্রহণই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করাও অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় পানিশূন্য থাকলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত।

চিকিৎসকরা বলছেন, রমজানে খাদ্যাভ্যাসে সামান্য সচেতনতা পুরো মাসটিকে সুস্থ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলতে পারে। অনেকেই রোজার সময় অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এর পরিবর্তে প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ শরীরকে শক্তিশালী ও কর্মক্ষম রাখে।

মানবদেহের সুস্থতা নির্ভর করে সঠিক পুষ্টির ওপর। রমজানে এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ এই সময় শরীর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকে এবং পরে হঠাৎ বেশি খাবার গ্রহণ করলে তা শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে খাদ্য নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।

পুষ্টিবিদরা মনে করেন, সচেতনতা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে রমজান শুধু আধ্যাত্মিক নয়, শারীরিকভাবেও উপকারী হতে পারে। সঠিক খাদ্য গ্রহণ শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়।

রমজান সংযমের মাস, আর এই সংযম শুধু খাবারের পরিমাণে নয়, খাবারের গুণগত মানেও হওয়া উচিত। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের মাধ্যমে একজন রোজাদার তার শরীরকে সুস্থ, শক্তিশালী এবং কর্মক্ষম রাখতে পারেন। এতে করে রমজানের প্রতিটি দিন হয়ে উঠতে পারে স্বস্তিদায়ক এবং স্বাস্থ্যকর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত