ঢাকায় বাড়ছে তাপমাত্রা, আকাশ থাকবে পরিষ্কার: আবহাওয়ার বার্তা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭ বার
ঢাকার তাপমাত্রা আজ আবহাওয়া

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শীতের বিদায় ঘণ্টা বেজে উঠছে ধীরে ধীরে, আর সেই সঙ্গে প্রকৃতিতে বসন্তের ছোঁয়া স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকাতেও তাপমাত্রা বাড়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সূর্যের আলো কিছুটা উজ্জ্বল, বাতাসে শীতের কাঁপুনি কমে এসেছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, আজ রাজধানীর আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য হলেও বাড়তে পারে, যা বসন্তের আগমনের একটি স্বাভাবিক লক্ষণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় প্রকাশিত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য বিশেষ পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দিনের বেশির ভাগ সময় আকাশ পরিষ্কার থাকতে পারে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। একই সঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে, যা শীত শেষে গ্রীষ্মের দিকে যাত্রার ইঙ্গিত দেয়। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে হালকা বাতাস প্রবাহিত হতে পারে, যা দিনের বেলায় কিছুটা স্বস্তি দেবে।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোরের দিকে হালকা শীত অনুভূত হলেও সূর্য ওঠার পর সেই অনুভূতি দ্রুত কেটে যায়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৭ শতাংশ, যা সকালে কিছুটা ভ্যাপসা ভাব তৈরি করেছিল। আগের দিন রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা শীত মৌসুমের তুলনায় বেশ বেশি এবং গরমের আগাম বার্তা বহন করছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকেই বাংলাদেশে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। শীতের মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে আসে এবং দক্ষিণ দিক থেকে উষ্ণ বাতাস প্রবেশ করতে থাকে। এর ফলে দিনের বেলায় গরম অনুভূত হয়, আবার রাত ও ভোরে হালকা শীত থাকতে পারে। এই সময়টাকে সাধারণত শীত ও গ্রীষ্মের মধ্যবর্তী রূপান্তরকাল বলা হয়, যা বসন্ত নামে পরিচিত।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে রাজধানীসহ মধ্যাঞ্চলের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়তে পারে। যদিও বড় ধরনের তাপপ্রবাহের আশঙ্কা নেই, তবে দিনের বেলায় সূর্যের তেজ কিছুটা বেশি অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে বাইরে চলাচলের সময় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং রোদে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান এড়িয়ে চলার কথাও বলা হচ্ছে।

ঢাকার বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, কয়েকদিন ধরেই সকালে শীত থাকলেও দুপুরের দিকে গরম বেশ অনুভূত হচ্ছে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রিকশাচালকরা বলছেন, শীতের পোশাক ধীরে ধীরে গুছিয়ে ফেলতে হচ্ছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, হালকা ঠান্ডা আর উষ্ণ দিনের এই মিশ্র অনুভূতিই বসন্তের সবচেয়ে সুন্দর দিক। প্রকৃতিতে রঙের পরিবর্তন, গাছে নতুন পাতা আর বাতাসের আলাদা গন্ধ এই সময়টাকে বিশেষ করে তোলে।

আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের প্রভাব নগর জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও পড়ছে। সকালবেলা কুয়াশা বা শীতের প্রভাব কমে আসায় যান চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকছে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় সূর্যের আলো সরাসরি পড়ছে, যা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যও ইতিবাচক। অন্যদিকে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ধুলাবালু কিছুটা বাড়তে পারে, বিশেষ করে ব্যস্ত সড়কগুলোতে। এ কারণে শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষদের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানান, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে মার্চের শুরুতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। তখন দিনের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে কিছু এলাকায়। তবে রাতের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকবে, যা গ্রীষ্ম পুরোপুরি শুরু না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এই সময়টাতে বৃষ্টি সাধারণত কম হয়, ফলে শুষ্কতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতেও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করছে। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জে দিনের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং আকাশ বেশির ভাগ সময় পরিষ্কার থাকছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আবহাওয়া রবি শস্যের জন্য মোটামুটি অনুকূল হলেও অতিরিক্ত শুষ্কতা ফসলের ক্ষতি করতে পারে। তাই সেচ ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

শীতের শেষে আবহাওয়ার এই রূপান্তর মানুষের জীবনযাত্রায় মানসিক প্রভাবও ফেলে। দীর্ঘ শীতের পর উজ্জ্বল দিন, পরিষ্কার আকাশ ও উষ্ণ বাতাস মানুষের মধ্যে এক ধরনের চাঙ্গা ভাব তৈরি করে। অনেকেই সকালে বা বিকেলে খোলা জায়গায় হাঁটতে বের হচ্ছেন, পার্ক ও লেকপাড়ে ভিড় বাড়ছে। বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উৎসব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আপাতত ঢাকায় বড় কোনো ঝড় বা বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে মার্চ-এপ্রিলে কালবৈশাখীর মৌসুম শুরু হলে হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টি দেখা দিতে পারে। সে সময় তাপমাত্রা সাময়িকভাবে কমলেও আর্দ্রতা বেড়ে যাবে। তাই আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, রাজধানী ঢাকায় শীতের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আবহাওয়া ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। পরিষ্কার আকাশ, বাড়তে থাকা দিনের তাপমাত্রা এবং শুষ্ক পরিবেশ বসন্তের আগমনের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন নগর জীবন, কৃষি ও স্বাস্থ্য—সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলছে। তাই সচেতনতা ও প্রস্তুতির মধ্য দিয়েই এই মৌসুমি রূপান্তরকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com