প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
২০০৯ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আবারও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হলো অস্ট্রেলিয়াকে, যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য দুঃখজনক সংবাদ। টিমের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও অনেকটাই হতাশাজনক ছিল। বিশ্বকাপের আগে ইনজুরির কারণে সেরা খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি অস্ট্রেলিয়াকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ হতাশ দলের সাবেক ক্রিকেটার ম্যাথু হেইডেন, যিনি দেশের ক্রিকেটে দু’বারের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী।
২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শ্রীলঙ্কার কাছে বড় ব্যবধানে হারের পরই তাদের বিশ্বকাপ ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে যায়। পরের দিন আয়রল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ বৃষ্টির কারণে বাতিল হলে অস্ট্রেলিয়ার বিদায় নিশ্চিত হয়। মাত্র এক মাস আগে অ্যাশেজে দাপুটে পারফর্ম করা অস্ট্রেলিয়া এবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পড়েছে চরম ব্যর্থতায়। অভিজ্ঞদের ব্যর্থতা, দলের প্রস্তুতি ও মনোভাব—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, অস্ট্রেলিয়া কি সত্যিই টি–টোয়েন্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে?
ম্যাথু হেইডেন বলেন, ‘দল নির্বাচন এবং প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আমরা ভুল পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডের মতো ‘সব ঠিক আছে’ মনের ভাব থেকে আমরা নিজেদের অস্বীকার করছি। এটি দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফল।’ তিনি উল্লেখ করেন, দলের কৌশল, প্রস্তুতি এবং খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা—সব ক্ষেত্রেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
হেইডেন বিশেষ করে ক্যামেরুন গ্রিন–এর পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আইপিএলে ইতিহাসের অন্যতম দামী বিদেশি ক্রিকেটার হলেও বিশ্বকাপে তিনি আস্থা ও আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। হেইডেন বলেন, ‘ব্যাট হাতে গ্রিন একেবারেই আত্মবিশ্বাসহীন। দেশে ওয়ানডেতে দারুণ খেলেছে, অথচ তাকে অবহেলা করা হয়েছে। তার জায়গা অবশ্যই টেস্ট দলেও থাকা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সূচি পুনর্বিন্যাস করা দরকার। দলের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো ক্রিকেটারদের সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা। তাদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি, খেলার সুযোগ এবং বিশ্রামের সঠিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।’ হেইডেনের মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনা না হলে এমন পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি ঘটতে বাধ্য।
বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যর্থতা কেবল খেলোয়াড়দের ব্যর্থতা নয়, বরং দলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, নির্বাচক কমিটির সিদ্ধান্ত এবং প্রস্তুতির অভাবের প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইপিএল, অস্ট্রেলিয়ান লিগ ও আন্তর্জাতিক সিরিজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দলের মানসিক চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে খেলোয়াড়রা বড় মঞ্চে নিজের সেরাটা দিতে পারছে না।
অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যর্থতা বিশ্বের অন্যান্য ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কা ও আয়রল্যান্ডের মতো মধ্যম মানের দলগুলো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শক্তিশালী ভাব প্রকাশ করেছে। ফলে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে।
হেইডেন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের প্রতিভা সর্বোচ্চ, তবে তাদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং মানসিক সমর্থন ছাড়া বড় আসরে সাফল্য নিশ্চিত করা যায় না। এই ব্যর্থতা আমাদের সতর্ক করেছে যে, শুধু নামী খেলোয়াড় থাকলেই বিশ্বকাপে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। প্রস্তুতি, কৌশল, দলের একতা এবং খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস নিশ্চিত করতে হবে।’
এছাড়া হেইডেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচের পর শুধু ফলাফলের দিকে না তাকিয়ে, খেলোয়াড়দের ফিটনেস, মানসিক প্রস্তুতি এবং কৌশলগত দিক থেকে পুনঃমূল্যায়ন করা দরকার। আগামী বিশ্বকাপে ভালো করতে হলে দ্রুত পরিবর্তন আনা জরুরি।’
বিশ্বকাপের এ ব্যর্থতা অস্ট্রেলিয়ার সমর্থক ও মিডিয়াকেও হতাশ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে ক্রিকেটভক্তরা তাদের দলের কৌশল, খেলোয়াড় নির্বাচন এবং ব্যর্থতার কারণ নিয়ে নানা সমালোচনা করছেন। অনেকেই বলছেন, বিশ্বের শক্তিশালী দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়া যেন এই ধরনের ব্যর্থতায় পতন না ঘটে, সেজন্য দ্রুত সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করা দরকার।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় কেবল একটি খেলার ফলাফল নয়, বরং দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনা ও খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার প্রতিফলন। হেইডেনের মত বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ব্যর্থতা অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটকে আত্মসমালোচনা এবং পুনর্গঠনের সুযোগ দিতে পারে। আগামী টুর্নামেন্টগুলোতে যদি সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে অস্ট্রেলিয়া আবারও বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষে ফিরতে পারবে।