প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে অফের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিউস এর গোলের পর বেনফিকার আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে, যা নিয়ে উয়েফা (ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা) এখন তদন্ত শুরু করেছে। রিয়াল মাদ্রিদের একমাত্র গোলে ম্যাচ জিতলেও খেলার উত্তাপ এবং গোল উদযাপনের মুহূর্তে ঘটে যাওয়া ঘটনা পুরো খেলাটিকে কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করেছিল। ঘটনার সূত্রপাত হয়, যখন গোল করার পর ভিনিসিউস উদযাপন করতে গিয়ে প্রেস্তিয়ান্নি তাকে মুখ ঢেকে কিছু বলে। ব্রাজিলিয়ান তারকা তখন রেফারির কাছে অভিযোগ তোলেন যে, তাকে ‘মোনো’ অর্থাৎ বানর বলা হয়েছে।
ম্যাচের টিভি ফুটেজে দেখা যায়, ভিনিসিউস রেফারিকে স্পষ্টভাবে জানান, তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদের ভাষ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ম্যাচের পর রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারোয়া আরবেলোয়া বলেন, “বেনফিকা খেলোয়াড় কী বলেছে সেটা তাকে জিজ্ঞেস করতে হবে। ভিনিসিউস যা বলেছেন তা আমি বিশ্বাস না করার কোনো কারণ দেখছি না।” এ ছাড়া ভিনি সামাজিক মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে লেখেন, বর্ণবাদীরা ‘কাপুরুষ, যারা মুখ ঢেকে কথা বলে।’
ভিনিসিউসের সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপ্পোও ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন, প্রেস্তিয়ান্নি ওই শব্দটি পাঁচবার ব্যবহার করেছেন। এই ঘটনার ফলে উয়েফা একজন নীতি ও শৃঙ্খলা পরিদর্শককে দায়িত্ব দিয়েছেন তদন্ত পরিচালনার জন্য। যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে প্রেস্তিয়ান্নি ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অন্তত ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ হতে পারেন।
ভিনিসিউস স্পেনের বিভিন্ন মাঠে বছরের পর বছর ধরে বর্ণবাদের শিকার হয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে এই ধরনের আচরণের ঘটনা আগেও ঘটে এসেছে, যা ফুটবল বিশ্বে সামাজিক সংহতি এবং ন্যায়পরায়ণতার বিষয়কে সামনে এনেছে। এবার প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি আবারও স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, বর্ণবাদ কোনোরকমে tolerated নয় এবং কঠোর শাস্তি কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, প্রেস্তিয়ান্নির ক্লাব বেনফিকা তার পাশে দাঁড়িয়েছে। পর্তুগিজ ক্লাবটি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছে, ‘একসাথে তোমার পাশে’। একই সঙ্গে বেনফিকা একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যাতে দেখা যাচ্ছে যে, রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা প্রেস্তিয়ান্নির থেকে বেশ দূরে অবস্থান করছিলেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভিডিও প্রমাণ করে, এমনকি যদি প্রেস্তিয়ান্নি কোনো শব্দ বলতেন, সেটি প্রতিপক্ষের শোনার কথা নয়।
ঘটনার ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মাঠে বর্ণবাদ বিরোধী সচেতনতা আরও জোরদার হচ্ছে। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় এবং নৈতিক আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করা না গেলে খেলার পরিবেশ নষ্ট হতে পারে এবং খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়কেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ভিনিসিউসের এই অভিযোগ সামাজিক মাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদ ও অবমাননাকর আচরণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যাবশ্যক। ইউরোপের বড় লিগগুলোতে নিয়মিত এই ধরনের ঘটনা ঘটলেও, প্রশাসনিক ও তদন্ত প্রক্রিয়া এখন আরও কার্যকর হয়েছে।
ফুটবল সামাজিক সংহতি, সমতার বার্তা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। যে কোনো বর্ণবাদী আচরণ শুধু খেলোয়াড়কে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং দর্শক এবং সম্প্রদায়কেও বিভ্রান্ত করে। এই ঘটনার মাধ্যমে ফুটবল কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আরও সক্রিয় হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ভিনিসিউসের পরিস্থিতি আবারও ফুটবল প্রেমীদের মনে করিয়ে দিয়েছে, খেলোয়াড়রা মাঠে শুধু পারফরম্যান্স নয়, নৈতিক দায়িত্বও পালন করছেন। আর এই দায়িত্বের অংশ হিসেবে বর্ণবাদ, বৈষম্য ও অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। উয়েফার তদন্ত শেষ হলে প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি কার্যকর হবে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য খেলোয়াড়দের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদ বিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন লিগে সতর্কতা, সামাজিক সচেতনতা প্রচারণা, তদন্ত ও শাস্তি কার্যকর হয়েছে। এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ সকল ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সমতার পরিবেশ নিশ্চিত করা অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।