শাদাবের খোঁচা: সিনিয়ররা বিশ্বকাপে ভারতকে হারাতে পারেননি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার
পাকিস্তান ভারত বিশ্বকাপ হারের প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ভারতের সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের লড়াই নতুন বিতর্কে মোড় নিয়েছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচে ভারতের কাছে ৬১ রানের ব্যবধানে হেরে পাকিস্তান মাঠে নেমে সমালোচনার মুখোমুখি হয়। বিশেষ করে দলের তিন সিনিয়র ক্রিকেটার বাবর আজম, শাহিন আফ্রিদি ও শাদাব খানের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে। সাবেক তারকা শহিদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ইউসুফ পর্যন্ত একাদশ থেকে তাদের বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন। পাকিস্তানের আধুনিক ক্রিকেটের এই তিন বড় নামকে হারের দায় চাপানোর কথা শোনা গেছে সাংবাদিক ও সমালোচকদের বক্তব্যে।

এই সমালোচনার উত্তরে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ স্পিনার শাদাব খান সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, সিনিয়ররা পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে জয় উপহার দিতে পারেননি, বর্তমান দল তা দেখিয়েছে। শাদাব বলেন, “সাবেক ক্রিকেটারদের নিজস্ব মতামত থাকতে পারে। তারা পাকিস্তানের জন্য ভালো খেলেছেন, কিন্তু তাদের সময়কালেও বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে উল্লেখযোগ্য কিছু হয়নি। ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা ভারতকে হারিয়েছিলাম। আমরা একমাত্র সেই দল যারা এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। হ্যাঁ, তারা কিংবদন্তি, কিন্তু ইতিহাস আমাদের কথাই প্রমাণ দেয়।”

পাকিস্তান টুর্নামেন্ট শুরু করে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে, এরপর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় অর্জন করেছিল। তৃতীয় ম্যাচে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে হারের ফলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সাবেক ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফ মন্তব্য করেন, বাবর, শাহিন ও শাদাবের সময় শেষ। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে নতুন পারফর্মার দরকার, দুর্বল দলের বিপক্ষে ফাঁকা জয় নয়।” শহিদ আফ্রিদি ও একই সুরে মত প্রকাশ করেন এবং নামিবিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিন সিনিয়র খেলোয়াড়কে বেঞ্চে বসানোর পরামর্শ দেন। আফ্রিদি বলেন, “আমি সিদ্ধান্ত নিলে বাবর, শাহিন ও শাদাব—তিনজনকেই বেঞ্চে বসাতাম। নতুনদের সুযোগ দিতাম, আত্মবিশ্বাস দিতাম।”

শাদাব সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দল কিছু ভুল করেছে এবং জয় পাওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, “কিন্তু আমাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপ জেতা। আমরা আমাদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি। দল সঠিক পথে আছে এবং ধারাবাহিক উন্নতি করতে হবে।” পাকিস্তানের এই স্পিনার আশা প্রকাশ করেন, সুপার এইট পর্বে নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মুখোমুখি হলে দল আরও ভালো পারফর্ম করবে। তিনি বলেন, “আমরা সঠিক পথে আছি। যেসব ভালো কাজ করছি, তা চালিয়ে যেতে হবে। ব্যাটিং একই ধারায় রাখতে হবে। সাহিবজাদা ফারহান দারুণ ফর্মে আছে।”

শাদাব আরও উল্লেখ করেন, “সুপার এইট কঠিন হবে। এগুলো হবে উচ্চচাপের ম্যাচ। রমজান শুরু হয়েছে, এটি আমাদের জন্য যেন ১২তম খেলোয়াড়ের মতো।” তাঁর কথায়, মানসিক চাপের মধ্যে ধৈর্য্য ধরে খেলা এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই দলকে উন্নতি এবং জয় এনে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ এবং হারের পর সমালোচনার মুখোমুখি হওয়া ক্রিকেটারদের জন্য কঠিন হলেও, দলের পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অপরিহার্য। শাদাবের মন্তব্য স্পষ্ট করে যে, পাকিস্তান বর্তমান প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী এবং দলীয় পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে চলেছে।

পাকিস্তানের এই প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলের মনোবল এবং নেতৃত্বের দক্ষতার দিকেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। শাদাবের বক্তব্য, “সাবেকরা যা করতে পারেননি, আমরা তা দেখাচ্ছি,” শুধু সমালোচকদের জবাব নয়, এটি একটি আত্মবিশ্বাসের বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সিনিয়র ও জুনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় এবং নৈতিক নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স, বিশেষ করে ভারতের বিরুদ্ধে অতীত হারের প্রভাব এবং বর্তমান দলীয় শক্তি দর্শকদের জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা, আত্মবিশ্বাস এবং ধারাবাহিকতা রাখাই সুপার এইট পর্বে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত