প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের এক নম্বর ব্যাটার হিসেবে অভিষেক শর্মার প্রত্যাশা ছিলো আকাশছোঁয়া। অনেকে আশা করেছিলেন, বিশ্বকাপে অভিষেকই হবে ভারতের হয়ে বড় হিটের নায়ক, দলের জয় নিশ্চিত করবেন। কিন্তু তিন ম্যাচে অভিষেক এখনও রানের খাত খুলতে পারেননি। ভারতের মিশন গ্রুপ পর্বে সফল হলেও, অভিষেকের পারফরম্যান্স এই মুহূর্তে চুলচেরা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। ক্রিকেটপ্রেমীরা তাকে নিয়ে উৎকণ্ঠিত, অনুরাগীরা চিন্তিত এবং বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে তিনি ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।
সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে ভারত মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় হাতে সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি সুনিল গাভাস্কার অভিষেক শর্মাকে মানসিক চাপ ভুলে কিছুটা সময় ক্রিজে কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনটি ম্যাচে অভিষেক মাত্র আট বল ক্রিজে ছিলেন। গাভাস্কার মনে করেন, প্রত্যাশার বোঝা এবং এক নম্বর ব্যাটারের পরিচয় তার খেলায় প্রভাব ফেলছে।
গাভাস্কার স্টার স্পোর্টসে বলেন, “হয়তো প্রত্যাশার চাপ ওর ওপর বেশি পড়ছে। সে দারুণ ছেলে। প্রথম ম্যাচে যদি উড়ন্ত সূচনা পেত, তাহলে চিত্রটা আলাদা হতে পারত। কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে, বড় হিটার, দলের এক নম্বর ব্যাটার—এই পরিচয়ের চাপ হয়তো তাকে ভোগাচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, অভিষেকের শটের পরিসর অত্যন্ত ভালো। তাই তাকে ইনিংস শুরুতে ধৈর্য ধরে ক্রিজে থাকতে হবে। শুরুতেই বড় শট বা ছক্কা মারার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ার দরকার নেই। চারটি ডট বলও সমস্যা নয়, কারণ পরবর্তী বলগুলোয় সে নিজের খেলা তৈরি করতে পারবে।
গাভাস্কার পরামর্শ দিয়েছেন, অভিষেককে ‘স্মার্ট ক্রিকেট’ খেলতে হবে। প্রথমে ক্রিজে সময় কাটানো, পিচ এবং বলের গতিপথ বোঝা, তারপর বড় ইনিংসের দিকে যাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পথ। তিনি বলেন, “ওকে বুদ্ধিদীপ্ত ক্রিকেট খেলতে হবে। পায়ে চলাচল আনতে হবে, প্রথম রানটা নিতে হবে। ভারতের হয়ে খেললে আগে স্কোরবোর্ডে নাম তুলতে হবে, এরপর সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। সেভাবে খেলা শুরু করতে পারলে সে বড় ইনিংস খেলবেই।”
অভিষেকের সাম্প্রতিক আউটের ধারা ২০২৬ সালে তাকে পাঁচটি ‘ডাক’-এর মধ্যে নিয়ে গেছে। যা এক ক্যালেন্ডার বছরে ওপেনারদের মধ্যে সর্বাধিক। এই তালিকায় পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবও আছেন, যিনি ২০২৫ সালে ছয়টি ডাক পেয়েছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, অভিষেকের উপর চাপ এবং প্রত্যাশার বোঝা তাকে সঠিকভাবে খেলার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে।
গাভাস্কার স্পষ্টভাবে বলছেন, শুরুতেই ডট বল বা ছোট রান নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া প্রয়োজন নেই। প্রথমে ক্রিজে সময় কাটানো এবং দলীয় খেলার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই বড় ইনিংসের চাবিকাঠি। অভিষেক যদি এই মানসিকতা গ্রহণ করে, তিনি সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে এবং পুরো টুর্নামেন্টে নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিষেক শর্মার মতো ব্যাটারকে মানসিকভাবে মুক্তি দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। চাপ কমানো, স্ট্রাইক রেটের চিন্তা বাদ দেওয়া এবং ধৈর্য ধরে খেলা তার জন্য সুফল বয়ে আনবে। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন উদাহরণ অনেক আছে যেখানে বড় ব্যাটাররা ক্রিজে ধৈর্য ধরে থেকে ম্যাচের গতি পরিবর্তন করেছেন। গাভাস্কারের পরামর্শও এ বিষয়েই কেন্দ্রীভূত।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে অভিষেকের জন্য সময় সীমিত হলেও, তার সুপারিশকৃত মানসিক কৌশল এবং ধৈর্যশীল খেলার ধারা তাকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে পারে। অভিষেক শর্মার ভক্তরা আশা করছেন, তার ব্যাট থেকে বের হবে সেই বিস্ফোরক ইনিংস, যা ভারতের জয়কে আরও নিশ্চিত করবে।