প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পাকিস্তানের করাচি শহরের সোলজার বাজার নম্বর–৩ এলাকায় বুধবার রাতে এক ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে একটি তিনতলা আবাসিক ভবনের বড় অংশ ধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু এবং আরও ১২ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণ এবং পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে, এবং এখনও কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় উদ্ধার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণটি ভবনের প্রথম তলায় ঘটেছে। সঙ্গে সঙ্গে ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে, যা আশেপাশের এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মৃতদেহ এবং আহতদের উদ্ধার করার জন্য সব ধরনের প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বিস্ফোরণটি হতে পারে গ্যাস সিলিন্ডার বা গ্যাস সাকশন মেশিন থেকে লিক হওয়া গ্যাসের কারণে। স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের সময় এলাকাটি ধ্বংসস্তূপে ভরে গেছে, ফলে আশেপাশের বসতবাড়ি ও দোকানপাটও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ১০ বছর বয়সি নাজিয়া এবং ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ রিয়াজের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। এ ছাড়া একটি নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও একজন নিহতের পরিচয় শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলছে। আহতদের মধ্যে রয়েছে এক কিশোরী, বয়স ১৪ বছর, যাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে, যারা চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ভবনের চারপাশের সরু রাস্তা ও ধ্বংসস্তূপের অস্থিরতা উদ্ধারকাজকে ব্যাহত করছে। তবুও তারা সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের সন্ধান চালাচ্ছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের সময় আতঙ্কে সেখান থেকে ছুটে বের হওয়া এবং আশেপাশের এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তারা বলেন, এমন বিস্ফোরণ অনেকটা ভয়াল দুঃস্বপ্নের মতো ছিল। এলাকাবাসীকে দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের পদক্ষেপকে প্রশংসা করেছেন।
উদ্ধার অভিযানের সাথে ক্যালারার দমকল ও স্থানীয় মেডিকেল টিমও যুক্ত হয়েছে। তারা ধ্বংসস্তূপ থেকে আহতদের বের করে দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণ করছে। হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কিছু রোগীর অবস্থা গুরুতর, বিশেষ করে শিশুরা এবং বৃদ্ধরা। হাসপাতালগুলো জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
পাকিস্তানের করাচিতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা পুনরায় গুরুত্ব দিয়েছে শহরের অবকাঠামো এবং গ্যাস ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তার ওপর। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনেক ভবনেই সঠিকভাবে গ্যাস লিক নিরীক্ষণ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, নিয়মিত তদারকি এবং নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন।
উদ্যোগী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে গ্যাস সরবরাহ ও ব্যবহারকারীর প্রশিক্ষণ, নিয়মিত পরীক্ষণ এবং জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। পাশাপাশি, প্রশাসন বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভবন নির্মাণের মানসম্মত নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
এই দুর্ঘটনা করাচি শহরের জন্য একটি দুঃখজনক স্মরণ হয়ে থাকবে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রাষ্ট্র ও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব হবে এই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ।