প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সরকার ২০২৬ সালের জন্য দেশের ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং এক প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা জাতীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠান শাখা থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এবারের একুশে পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে আছে অভিনয়ের ক্ষেত্রে ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার, স্থাপত্য ক্ষেত্রে মেরিনা তাবাসসুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নৃত্যে অর্থী আহমেদ, পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস। এছাড়া সংগীতে ওয়ারফেজকেও এই পুরস্কার দেয়া হবে।
একুশে পদক ১৯৭৬ সাল থেকে দেশের বিশিষ্ট ভাষাসৈনিক, সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানকারী এবং সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়। এই পদকপ্রাপ্তদের অবদান শুধুমাত্র তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এটি সমাজ, সংস্কৃতি এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও প্রভাব ফেলে।
ফরিদা আক্তার ববিতা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাট্য জগতের একজন আইকনিক ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ সময় ধরে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষকে বিনোদন এবং সামাজিক সচেতনতা প্রদান করেছেন। তার ব্যতিক্রমী অভিনয় দক্ষতা এবং বিভিন্ন চরিত্রে উজ্জ্বল উপস্থিতি তাকে দেশের বিনোদন জগতের অন্যতম প্রধান নারী শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
চারুকলায় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার বাংলাদেশে চিত্রকলার ক্ষেত্রে শিক্ষাবিদ এবং গবেষক হিসেবে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তার গবেষণা, শিক্ষাদান এবং চিত্রশিল্প উন্নয়নের প্রচেষ্টা চিরস্মরণীয়। স্থাপত্য শিল্পে মেরিনা তাবাসসুম নতুন ধারণা ও সমসাময়িক স্থাপত্যের সঙ্গে স্থানীয় ঐতিহ্যকে মেলানোর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।
সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু বাংলাদেশের রক সংগীতের অগ্রদূত ছিলেন। তার সৃষ্টিশীলতা, ব্যান্ড সংগীতের প্রসার এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সাংগীতিক অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি মৃত্যুর পরও সংগীত প্রেমীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। নৃত্যের ক্ষেত্রে অর্থী আহমেদ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও সমকালীন নৃত্যশিল্পের সংমিশ্রণে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষভাবে অবদান রেখেছেন। সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান দেশের সাংবাদিকতার জগতে নির্ভীক প্রতিবেদন ও সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের জন্য সুপরিচিত। শিক্ষায় অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার শিক্ষাব্যবস্থা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস সমসাময়িক ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে স্বকীয়তা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
ওয়ারফেজ একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সংগীত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তারা দেশের সাংগীতিক সংস্কৃতি প্রসারে নতুন ধারার কাজ করে চলেছে এবং তরুণ প্রতিভাদের সমর্থন প্রদান করছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই পদক প্রদানের মাধ্যমে দেশের জ্ঞান, শিল্প ও সংস্কৃতির অগ্রগতিতে অবদান রাখা ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে। একুশে পদক শুধু সম্মানই নয়, এটি দেশের সংস্কৃতি, শিল্প, শিক্ষা এবং সমাজে অনন্য অবদান রাখার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
সরকারি পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, একুশে পদকের মাধ্যমে প্রতিভাবান ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদের অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি পায়। এটি সমাজে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত, সংস্কৃতিবান এবং সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করে। পদকপ্রাপ্তরা দেশের মানসিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে কাজ করছেন।
এবারের একুশে পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা দেশজুড়ে আনন্দ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষত, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষাব্যক্তিত্বদের জন্য এটি একটি বিশেষ মর্যাদা ও স্বীকৃতি। তাদের অর্জিত সম্মান শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতিরও প্রতিফলন।
এই পদকপ্রাপ্তরা ভবিষ্যতে তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি উৎসাহিত করবেন এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে সমৃদ্ধ করার প্রেরণা যোগাবেন। দেশের ইতিহাসে একুশে পদক একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অসামান্য অবদানের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।