যে নারী এমপিরা মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
নারী এমপি মন্ত্রিসভা স্থান

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশ রাজনীতিতে নারীদের উপস্থিতি নতুন রূপে চোখে পড়ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা ৫০টি থাকায় এবার সংসদে মোট ৫৭ নারী সংসদ সদস্য থাকবেন। এর ফলে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের হার দাঁড়িয়েছে ১৬ শতাংশে। ২৯৯ নির্বাচনী আসনে মোট ৮৬ জন নারী প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে সাতজন বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ীদের মধ্যে তিনজন নারী মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নারীদের ক্ষমতায়নকে আরও দৃঢ় করেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিজয়ী আফরোজা খানম রিতা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ফরিদপুর-২ আসনের শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন নাটোর-১ আসনের ফারজানা শারমিন পুতুল। এই তিনজন নারী মন্ত্রীর নিয়োগ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ এবং ক্ষমতায়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জ-৩ (সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌর ও জেলা সদরের আট ইউনিয়ন) আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাইদ নূর, যিনি ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট পেয়েছিলেন। এ বিজয় নারীদের জন্য রাজনৈতিক ক্ষেত্রের একটি অনুপ্রেরণার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফরিদপুর-২ আসনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জয়ী হয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ১০০ ভোট নিয়ে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এসএম নেয়ামুল করিম দাঁড়িপাল্লা ছিলেন ৬৯ হাজার ৮০৫ ভোট পেয়ে। একইভাবে নাটোর-১ আসনে মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল নির্বাচিত হয়েছেন। এই নারীদের জয় প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক দৃঢ়তা, নেতৃত্ব এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে নারীরাও দেশের শীর্ষ পদে আসতে সক্ষম।

এবারের নির্বাচনে মোট ৩০০ আসনে ২,১৭০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৪ জন, যা মোট প্রার্থীর মাত্র চার শতাংশ। দলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন ৬৬ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ১৯ জন। এছাড়া একজন হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রার্থীও নির্বাচন লড়েছেন।

নারী প্রার্থীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা ৩২ জন। প্রায় ৬৭ শতাংশ নারী প্রার্থী কর্মজীবী। তবে নির্বাচনে নারীর সংখ্যা কম থাকার পেছনে সমাজে নারীবিদ্বেষী মনোভাব এবং রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নির্বাচনের আগে নারীবিদ্বেষী প্রচার নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন প্রার্থীরা। ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রচুর প্রচার চলেছিল যে কোনো দল কখনো নারী প্রধান হতে পারবে না।’ তিনি আরো বলেন, নারীদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার হার বাড়ানোর জন্য দলের মধ্যে মনোনয়ন প্রদান এবং সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন।

এবার নির্বাচনে নারী এমপিদের সীমিত সংখ্যার মধ্যেও মন্ত্রিসভায় তিনজন নারী প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নারীরা রাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক উদাহরণ স্থাপন করছেন। তারা শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন নয়, বরং নারী ও শিশু কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আফরোজা খানম রিতা, শামা ওবায়েদ ইসলাম ও ফারজানা শারমিন পুতুলের এই পদে অবস্থান প্রমাণ করছে, সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন কেবল নির্বাচনে জয় নয়, বরং বাস্তব পদক্ষেপ এবং দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে সম্ভব। তারা দেশের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, নারীদের এই জয় এবং মন্ত্রিসভায় অবস্থান দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নারীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে আরও বেশি নারী প্রতিশ্রুতিশীল প্রার্থী নির্বাচিত হলে মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়বে এবং নীতিনির্ধারণে নারীর ভূমিকা আরও দৃঢ় হবে।

নারীদের জন্য নির্বাচনী জয় সহজ নয়। তবে এই বিজয় সমাজে নারীর মর্যাদা, সমানাধিকার এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারীর অবদান, নেতৃত্ব এবং দায়িত্বশীলতার এই দৃশ্যমান উদাহরণ ভবিষ্যতে আরও বেশি নারীর রাজনীতিতে আগ্রহ এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত