দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
দক্ষিণ কোরিয়া প্রেসিডেন্ট কারাদণ্ড

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে, যখন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে ক্ষমতার অপব্যবহার ও সামরিক শাসন জারির পরিকল্পনায় নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই শাস্তি ঘোষণা করেছে। প্রসিকিউটররা এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের দাবিও জানিয়েছিলেন, কিন্তু আদালত তার বদলে সর্বোচ্চ অমানবিক শাস্তি থেকে এক ধাপ কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

ইউন সুক ইওল দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সামরিক শাসন জারি করার পরিকল্পনায় সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে আদালতে হাজির হন। এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরেই তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর আদালত তার দোষী সাব্যস্ত করার রায় দেয়। দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী বিদ্রোহ বা সামরিক শাসনের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে মূল পরিকল্পনাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ১৯৯৭ সাল থেকে দেশে কেউ মৃত্যুদণ্ড পায়নি, যদিও ২০১৬ সালে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।

৬৫ বছর বয়সী সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে সামরিক শাসন জারি করার চেষ্টা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। আদালতের রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ইউনের আইনজীবীরা জানান, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আপিল প্রক্রিয়ার যে কোনো সিদ্ধান্তকেও সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ তার রয়েছে। বর্তমানে তিনি আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাস্তি ভোগ করছেন এবং আরও দুটি মামলার বিচারাধীন রয়েছে, যা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত ও ব্যক্তিগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

রায় ঘোষণার সময় আদালতের বাইরে শত শত ইউনপন্থি সমর্থক জড়ো হন। আগের মাসে দেওয়া অন্য রায়ের তুলনায় আজকের ভিড় অনেক বেশি ছিল। সমর্থকরা প্লাকার্ড হাতে প্রেসিডেন্টের পক্ষ নিয়ে স্লোগান দেন এবং আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এই দৃশ্য কেবল রাজনৈতিক উত্তেজনাই নয়, বরং দক্ষিণ কোরিয়ার সমাজে সাবেক নেতাকে ঘিরে নৈতিক ও রাজনৈতিক বিতর্ককেও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের এই শাস্তি দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধানিক ও আইনগত কাঠামোর শক্তি প্রদর্শন করছে। এটি দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেন, তাদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করবে। তবে একইসাথে দেশের জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা, সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে মতবিরোধ এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।

সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এবং আদালতের রায় দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এক রাজনৈতিক মাইলফলক। সামরিক শাসন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশের আইনি কাঠামো কতটা কার্যকর তা এ রায় প্রমাণ করে। পাশাপাশি, দেশটির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রেসিডেন্টের আচরণ ও নৈতিকতার প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে। আদালতের এই কঠোর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংবিধানিক নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ববোধকে শক্তিশালী করার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশব্যাপী রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের এই রায়ের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন। এটি কেবল দক্ষিণ কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই প্রভাব ফেলবে না, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতি, মানবাধিকার এবং ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত