ভিন্নমতকে দমন নয়, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি চাই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভিন্নমত স্বাগত

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বৃহস্পতিবার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি বার্তা প্রকাশ করে বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভিন্নমতকে দমন না করে বরং স্বাগত জানানোই হওয়া উচিত। তার কথায়, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই জুলাই আন্দোলন। ফ্যাসিবাদের ১৭ বছরে বর্তমান সরকারি দল এবং আমরা—উভয় পক্ষই স্বাধীন মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে দমন-পীড়নের শিকার হয়েছি। আমরা সেই অন্ধকার সময়ে আর ফিরতে চাই না।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে ভিন্নমতকে দমন করা সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতিকর। বরং এই ভিন্নমতকে স্বাগত জানানো এবং সমন্বিত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচায়ক হতে পারে। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মতভেদকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য করা অপরিহার্য।

তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন, দেশের রাজনীতিতে গতিবেগ ও শক্তি দিয়ে অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হলেও সেই অগ্রগতি যদি স্বচ্ছ ও মুক্ত মতপ্রকাশের উপর ভিত্তি না করে, তবে তা টেকসই হবে না। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি নতুন প্রজন্মের রাজনীতিবিদ এবং সাধারণ নাগরিকদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করতে চান, যেখানে মতভেদকে তুচ্ছ করা হবে না বরং তা আলোচনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ভিন্নমত suppression বা দমন কোনো নতুন ঘটনা নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সময়, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠী স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ এটি রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে পুনরায় প্রাধান্য দেয়ার আহ্বান।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ভিন্নমতকে স্বাগত জানানো এবং তা উপযুক্ত আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে রূপান্তর করা একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। ডা. শফিকুর রহমানের বার্তা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, যা দলীয় রাজনীতিকে আরও গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিত করে তুলতে পারে।

তার বক্তব্যে আরও লক্ষ্য করা যায় যে, গণমাধ্যমকে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার মঞ্চ হিসেবে মান্য করা এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একটি সুস্থ গণতন্ত্রে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা জনগণকে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে, এবং সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলকেও সমালোচনার জন্য স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে উৎসাহিত করে।

ডা. শফিকুর রহমানের এই বার্তায় রাজনৈতিক সহমর্মিতা ও সহিষ্ণুতার গুরুত্ব বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, আগের সময়ে দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, নতুন প্রজন্মকে রাজনৈতিক সংলাপে অংশগ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ করা উচিত। এতে রাজনৈতিক সংস্কৃতির মানোন্নয়ন হবে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে যে বার্তাটি দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতারা এবং নাগরিক সমাজ যদি ভিন্নমতকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে শক্তিশালী করবে।

ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট প্রতিবাদ, যা রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত আলোচনার সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বিশ্বাস করেন, মুক্ত মতপ্রকাশের পরিবেশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেই দেশে একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব।

তাঁর এই আহ্বান নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে মতের বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং তা দমন করা হবে না। এটি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল করবে, এবং সমাজের বৃহত্তর অংশকে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে।

ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যে, গণতন্ত্রের উন্নয়ন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ভিন্নমতকে স্বীকৃতি দেওয়া অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত