হিরো আলম গ্রেফতার, আদালতে সোপর্দ করা হলো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১১ বার
হিরো আলম গ্রেফতার মামলা

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে বগুড়ার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে রাজধানীর ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মাঝিড়া বন্দর এলাকা থেকে ধাওয়া করে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে হিরো আলম আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বগুড়ার কারাগারে রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরের দিকে শাজাহানপুরের মাঝিড়া বন্দরে উপস্থিত হয়ে হিরো আলমের গাড়ি থামানো হয়। ধাওয়া শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করেন। হিরো আলমের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল সাদিয়া রহমান মিথিলার পক্ষ থেকে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, হিরো আলম নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিয়ের আশ্বাস প্রদান করে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন চালান এবং গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন।

মামলা অনুযায়ী, হিরো আলম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এরপরও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে পিবিআই রিপোর্টের ভিত্তিতে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আনোয়ারুল হক ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এক সপ্তাহ পর বুধবার দুপুরে হিরো আলমকে গ্রেফতার করা হয়।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর সংবাদমাধ্যমকে জানান, গ্রেফতারকৃত হিরো আলমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আদালত বাকি আইনী ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ করবে। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ এবং তদন্ত সংস্থা বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

এই গ্রেফতারের ঘটনায় দেশজুড়ে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। হিরো আলম দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন কনটেন্ট তৈরি এবং জনপ্রিয়তা অর্জনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ এবং গ্রেফতার তার জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনার ঝড়ও বইয়ে দিয়েছে।

এ ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাদের পরিচিতি বেশি, তাদের আচরণে দায়িত্ববোধ থাকা জরুরি। কোনো ব্যক্তিগত আচরণ কিংবা অপরাধের জন্য আইনের আওতায় পড়া অব্যাহত থাকবে, এবং জনগণের আস্থা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা অপরিহার্য।

অভিযোগে বলা হয়েছে, হিরো আলম প্রাথমিকভাবে মিথিলাকে প্রতারণামূলকভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালান। মিথিলা ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এরপর মামলা প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়।

এ ঘটনায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বলেছে, গ্রেফতারের পর হিরো আলমকে যাতে আইনের সমুন্নত প্রক্রিয়ায় বিচার হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং সমাজে নৈতিকতারক্ষা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে।

হিরো আলম গ্রেফতারের এই ঘটনা দেশের বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিবেশে নতুন প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। সমাজকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের জন্য সরকারের এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।

এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সকল প্রক্রিয়া আইনের নিয়ম অনুসারে দ্রুত সম্পন্ন হবে। আদালত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে, প্রতিটি পদক্ষেপ স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীলভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই ধরণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সমর্থনযোগ্য বলে আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত