প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় ১৮ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি তারেক রহমানের কাছে লিখিত চিঠির মাধ্যমে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছেন। চিঠিতে মার্কিন জনগণের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্য শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান এবং মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার যৌথ স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেছেন, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি নেতা নেতৃত্বে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণও উপকৃত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দিয়ে চিঠিতে উল্লেখ করেছে যে, নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী উন্নতমানের আমেরিকান সরঞ্জামে প্রবেশাধিকার পাবে। এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
এর আগেই ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বিএনপি নেতা। শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন, যেখানে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। এই শপথ গ্রহণ এবং নতুন মন্ত্রিসভার গঠন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয় অর্জনের পরপরই হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অভিনন্দন শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এতে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারকে মার্কিন প্রশাসন সমর্থন দেবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এমনভাবে এগিয়ে নেবে যা উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে অবদান রাখবে। বিশেষত কৃষি, শ্রমিক উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে নতুন সরকারের গঠন এবং বিদেশি নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের অভিনন্দন একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রতিফলিত করছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর ফলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সামগ্রিকভাবে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিঠি এবং অভিনন্দনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেতা এর নেতৃত্বে দুই দেশের অংশীদারিত্ব নতুন দিগন্তে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রাখে। এই পদক্ষেপ দুই দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে গণ্য হচ্ছে।