প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রমজান মাসের শুরুতে সিলেটের রোজাদারদের জন্য সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। দেশের ৬৪ জেলায় পৃথক সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি জেলার রোজাদারদের এই নির্ধারিত সময় অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সিলেট জেলার জন্য নির্ধারিত এই সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম রোজা ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে। এ বছরের রোজার মাসে সেহরি শেষ করার সময় ধীরে ধীরে সকাল ৫:০৪ টা থেকে ৪:৩৮ টার মধ্যে পরিবর্তিত হবে, আর ইফতারের সময় বিকেল ৫:৫০ টা থেকে রাত ৬:০৫ টার মধ্যে বাড়বে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, প্রতিদিন নির্ধারিত সময় অনুসরণ করে সেহরি শেষ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেহরি শেষ হওয়ার পর রোজাদারকে ফজরের আগে পানি ও খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এ সময় সঠিকভাবে ফজরের আজান হওয়া পর্যন্ত রোজা পালন নিশ্চিত করতে হবে। ফজরের সময় প্রতিদিন সকাল ৫:০৯ টা থেকে ৪:৪২ টার মধ্যে পরিবর্তিত হবে, যা রোজাদারদের জন্য যথাযথ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সিলেটের রোজাদাররা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি মানার মাধ্যমে তারা রোজা পালন এবং ইবাদত করার ক্ষেত্রে আরও সুশৃঙ্খল ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। বিশেষ করে ইফতারের সময়ে পরিবারের সঙ্গে একসাথে প্রস্তুত হওয়া ও রোজা খোলা সহজ হবে। স্থানীয় ধর্মগুরু ও মুসলিম সমাজের নেতারা জানিয়েছেন, সময়সূচি অনুসরণ করে রোজা পালন করলে স্বাস্থ্যগত সমস্যাও কমে।
এ সময় বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য সময়সূচি মেনে হালকা খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। রোজাদাররা সাধারণত ইফতারের শুরুতে পানি এবং খেজুর খেয়ে শরীর প্রস্তুত করেন, এরপর হালকা খাবার গ্রহণ করা হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, দীর্ঘ সময় খাবার ও পানির বিরতি থাকায় ইফতারের আগে এবং পরে হজম সহজ করার জন্য অতিরিক্ত পানি একবারে না খেয়ে কিছু সময় বিরতি রেখে ধাপে ধাপে পান করা উচিত।
স্থানীয়ভাবে রমজান মাসের সময় ইফতার ও সেহরি কেন্দ্রগুলোতে ভিড় দেখা যায়। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও সামাজিক সংগঠনগুলো নিয়মিতভাবে সময়সূচি অনুযায়ী মাইক ও আলার্ম ব্যবহার করে সেহরি ও ইফতারের ঘোষণা দেয়। এটি রোজাদারদের জন্য সময়মতো খাদ্য গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করে এবং সবাইকে সমন্বিতভাবে ইবাদতের সুযোগ দেয়।
সিলেটের স্থানীয় মুসলিম সমাজ আশা করছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সময়সূচি মানার মাধ্যমে রোজাদাররা স্বাস্থ্যসম্মত ও নিয়মিত রোজা পালন করতে পারবে। পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানও সুসংগতভাবে সম্পন্ন হবে। বিশেষ করে ইফতারের সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া, সময়সূচি মেনে সেহরি ও ইফতার করা রোজাদারদের জন্য মানসিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক সমৃদ্ধি এনে দেয়। পরিবার ও সমাজে একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা, মানবিকতা এবং ধর্মীয় দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পায়। এতে রোজাদাররা ইবাদত ও দৈনন্দিন কার্যক্রমের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন।
সিলেটের জন্য নির্ধারিত সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছেন, আগামী দিনে সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে তা স্থানীয়ভাবে সংবাদ মাধ্যমে এবং মসজিদ-মাদ্রাসার মাধ্যমে জানানো হবে। রোজাদারদের জন্য এটি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় রোজা পালন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে।