প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে, আর তার মাঝেই নতুন রেকর্ড গড়ে নজর কাড়লেন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটার সিকান্দার রাজা। বিশ্বের পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০তম ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এই নজির গড়েছেন তিনি। এই অর্জন করার মাধ্যমে তিনি ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে ছাড়িয়ে গেলেন, যিনি এই খেতাব ১৭ বার জিতেছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘বি’-তে জিম্বাবুয়ের অবদান চরম বিস্ময় তৈরি করেছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা প্রথমে সুপার এইটে যাওয়ার দাবিদার হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে এগিয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু জিম্বাবুয়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স সেই সমস্ত পূর্বানুমানকে উল্টে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পরও তারা দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে।
সিকান্দারের এই সাফল্য শুধু ম্যাচের সেরা হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি বয়সে ম্যাচের সেরা হওয়ার রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন। রোহিত শর্মা এই রেকর্ডের ধারক ছিলেন; ৩৭ বছর বয়সে ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে সিকান্দার রাজা ৩৯ বছর ৩০১ দিন বয়সে এই নজির ভাঙলেন।
এ ছাড়া, টেস্ট খেলে না এমন দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সিকান্দারের অবস্থান অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মালয়েশিয়ার বিরানদীপ সিং ছাড়া এ ধরনের উচ্চস্তরের নজির গড়েছেন খুব কম ক্রিকেটার। এই বিশিষ্ট অর্জনের মাধ্যমে তিনি নিজের দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করেছেন।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই মুহূর্তে জিম্বাবুয়ে দলের লক্ষ্য সুপার এইটে পৌঁছে বাকি দলের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করা। সিকান্দারের নেতৃত্বে দলটি ইতিমধ্যেই অনেকে গণ্য করা হয়নি এমন পরিস্থিতিতেও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। তার বয়স এবং অভিজ্ঞতা দলকে মানসিকভাবে দৃঢ় রাখছে।
সিকান্দারের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে যে, বয়স কখনও ক্রিকেটারকে সীমিত করে না। ধারাবাহিক অনুশীলন, অভিজ্ঞতা এবং মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে বয়সের সীমা অতিক্রম করা সম্ভব। তার এই রেকর্ড ভাঙার ঘটনা ক্রিকেট জগতের নতুন প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে ছোট দেশগুলোর ক্রিকেটাররা দেখছেন যে, বিশ্ব মানের ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা করার ক্ষেত্রে বয়স কোনও প্রতিবন্ধকতা নয়।
বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে সিকান্দারের লক্ষ্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, পুরো দলকে সুপার এইটে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জন্য কঠিন প্রতিকূলতা সৃষ্টি করা। জিম্বাবুয়ে দলের কঠোর পরিশ্রম, অনুশীলন এবং অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয়ে তাদের পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদেরও অবাক করছে।
এই নজিরের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন রেকর্ড তৈরি হলো এবং বিশ্বকাপের উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। সিকান্দারের এই সাফল্য শুধুই রেকর্ড ভাঙার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি ক্রিকেটের দর্শক, বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে। তার পারফরম্যান্স দেখিয়ে দিয়েছে যে, সততা, দক্ষতা এবং দৃঢ় মনোবল থাকলে ক্রিকেটার যে কোনো বয়সে শীর্ষে পৌঁছাতে পারে।