প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত তাজ উদ্দিনের হত্যা মামলার তদন্ত সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ না করার কারণে সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমকে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানা গেছে, আদালত জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বছরের ২২ এপ্রিল, যখন মামলা তদন্তের জন্য পিবিআই পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ জেলা প্রশাসক ও বিজিবির উপমহাপরিচালকের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে আবেদন পাঠান। আদালত এই তথ্য সঠিক সময়ে না পাওয়ায় ১৫ জুন জেলা প্রশাসক ও বিজিবির উপমহাপরিচালককে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার চাওয়া তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেন। বিজিবি প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করলেও জেলা প্রশাসনের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে সহকারী কমিশনারকে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেয়ার পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এর ফলে মামলার তদন্ত বিলম্বিত হচ্ছে এবং বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। আদালতের আদেশ অমান্য করা ও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে চাওয়া তথ্য না দেওয়ার ঘটনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার জেলা প্রশাসককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। নোটিশে বলা হয়েছে, ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম সংবাদে জানান, আদালতের শোকজের বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং এ বিষয়ে আদালতে লিখিত জবাব প্রদান করা হবে। তিনি বলেন, আইনানুগভাবে আদালতের নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট তাজ উদ্দিন নিহত হওয়ার পর মামলা দায়ের করা হলেও নানা কারণে তদন্ত দীর্ঘ সময় ধরে এগোয়নি। আদালতের শোকজ এ ঘটনায় সরকারের প্রশাসনিক দায়িত্ব ও আইনের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিচারপ্রক্রিয়ার সুষ্ঠু কার্যক্রম এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালত এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসককে কারণ দর্শানোর মাধ্যমে আদালত প্রশাসনিক তদারকি ও তদন্তের গতি বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও আদালতের মধ্যে সমন্বয়হীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে। শোকজের মাধ্যমে আদালত প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্বও স্পষ্ট করেছে।
তাজ উদ্দিনের হত্যাকাণ্ড এবং মামলার দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়া সামাজিক ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মধ্যেও গুরুত্ব পেয়েছে। অনেকেই মনে করেন, তদন্তে দেরি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কখনও কখনও ন্যায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। শোকজের মাধ্যমে আদালত এই জটিলতার সমাধান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে প্ররোচিত করেছেন।
এবার জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সময়মতো প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে, মামলার সত্য উদঘাটন ও শাস্তি প্রাপ্তি বিলম্বিত হতে পারে।
শোকজের মাধ্যমে আদালত জেলার প্রশাসনিক প্রধানকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও দায়িত্ব পালনের প্রতি সজাগ থাকার বার্তা দিয়েছেন। এই পদক্ষেপ শুধু মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করবে না, বরং ভবিষ্যতে প্রশাসনিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সতর্কতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।